ফেসবুকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বিরুদ্ধে লেখা পোস্টের কারণে গুম করা হয়েছিল বলে জবানবন্দিতে দাবি করেছেন সাক্ষী মাসরুর আনোয়ার চৌধুরী। বুধবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন বিচারিক প্যানেলে আসামিপক্ষের আইনজীবীর জেরায় তিনি এই তথ্য জানান।
মাসরুর আনোয়ার র্যাবের টাস্কফোর্স ফর ইন্টারোগেশন (টিএফআই) সেলে গুম-নির্যাতনের ঘটনায় করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় তিন নম্বর সাক্ষী হিসেবে সাক্ষ্য দেন। ১৯ এপ্রিল তার সাক্ষ্য শুরু হয় এবং বুধবার দ্বিতীয় দিনের মতো তার জেরা শেষ হয়।
জেরায় মাসরুর জানান, আটক হওয়ার পর তার ফেসবুক অ্যাকাউন্টে মোদিবিরোধী পোস্টটি দেখানো হয়েছিল, তবে মুছে ফেলতে বলা হয়নি। তিনি আরও উল্লেখ করেন, আইনজীবী তাবারক হোসেনের প্রশ্নের জবাবে বলেন, ‘বাংলাদেশে আগমন উপলক্ষে পোস্ট দেওয়ার কারণে আমাকে আটক করা হয়নি। জঙ্গিগোষ্ঠীর সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার কারণে আটক করা হয়েছে।’ মাসরুর এই দাবি অস্বীকার করেন।
তিনি বলেন, ‘মোদিবিরোধী পোস্ট দেওয়ার কারণে আমাকে আটক করা হয়েছে। জঙ্গিগোষ্ঠীর সঙ্গে আমার কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই।’ জেরায় তিনি একাধিক অভিযোগ অস্বীকার করেন এবং রোহিঙ্গা ক্যাম্পে মসজিদ তৈরির অর্থ সংগ্রহের বিষয়ে বলেন, ‘আমি টাকা সংগ্রহ করেছি বন্ধু-বান্ধব ও আত্মীয়স্বজনের কাছ থেকে, অন্য কোনো তৎপরতা চালানো হয়নি।’
মাসরুরের বিরুদ্ধে আরও অভিযোগ ওঠে, তবে তিনি সেগুলো অস্বীকার করেন। তিনি জানান, মামলায় মোট ১৭ জন আসামি রয়েছেন, এর মধ্যে ১০ জন সেনা কর্মকর্তা গ্রেপ্তার হয়ে ঢাকার সেনানিবাসের সাব-জেলে রয়েছেন।
মামলার অন্যান্য আসামিদের মধ্যে শেখ হাসিনার সাবেক প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, সাবেক আইজিপি ও র্যাবের উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তারা রয়েছেন, যাদের মধ্যে বেশ কয়েকজন পলাতক রয়েছে।
