আসন্ন ঈদুল ফিতরকে কেন্দ্র করে রাজধানীর শপিং মলগুলোতে কেনাকাটা জমে উঠছে। ক্রেতাদের ভিড় বেড়েছে, বিশেষ করে নিম্ন ও মধ্যবিত্তরা বড় মার্কেট থেকে বাচ্চাদের পোশাক কিনলেও নিজেদের জন্য ফুটপাতের সাশ্রয়ী দোকানগুলোকে বেছে নিচ্ছেন।
রাজধানীর নিউ মার্কেট, বসুন্ধরা সিটি শপিং কমপ্লেক্স ও যমুনা ফিউচার পার্কসহ বিভিন্ন স্থানে ঈদ উপলক্ষ্যে ক্রেতাদের বাড়তি ভিড় দেখা গেছে। তবে অনেককেই কেনাকাটা না করে খালি হাতে ফিরতে দেখা গেছে। কিছু ক্রেতা পণ্যের চড়া দাম নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন, আবার কেউ কেউ পছন্দের পোশাক দেখে রাখছেন এবং ঈদের ঠিক আগে কিনবেন বলছেন। অনলাইনের দিকে ঝুঁকছেন অনেকেই।
ক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, নিম্ন ও মধ্যবিত্ত শ্রেণির মানুষ এবারের ঈদে সন্তানদের পোশাকের গুণমানকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছেন। গোপীবাগ থেকে নিউ মার্কেটে আসা রাজীব-মালা দম্পতি জানান, সন্তানদের জন্য মার্কেটের ভেতর থেকে কেনাকাটা করলেও নিজেদের জন্য ফুটপাতের দোকানে পণ্য খুঁজছেন। রাজীব বলেন, পোশাকের দাম এবার অনেক বেড়ে গেছে।
নিউ মার্কেট ব্যবসায়ী সমিতির যুগ্ম আহ্বায়ক ইউসুফ আলী শামীম জানান, এবার পণ্যের সরবরাহ পর্যাপ্ত থাকায় দাম নাগালের মধ্যেই আছে। গতবার পোশাকের দাম ৩০ শতাংশ বেড়ালেও এবার বেড়েছে মাত্র ১০ থেকে ১৫ শতাংশ।
বসুন্ধরা সিটি শপিং কমপ্লেক্সে কেনাকাটা করতে আসা আয়েশা আক্তার জানান, তিনি পছন্দের ড্রেসটি খুঁজে পাননি এবং অনলাইনে অর্ডার করার কথা ভাবছেন। শনিবার ইফতার-পরবর্তী সময়ে যমুনা ফিউচার পার্কের দোকানগুলোতে ঈদের আমেজ ও কেনাকাটার ব্যস্ততা দেখা গেছে।
শো-রুম ‘রয়েল ম্যান’-এর ম্যানেজার রাকিবুল ইসলাম জানান, গত শুক্রবার থেকে বিক্রি ভালো হচ্ছে। তবে ‘প্লাস পয়েন্ট’-এর শোরুম ম্যানেজার আরাফাত চৌধুরী বলেন, বিক্রি বাড়লেও তা কাঙ্ক্ষিত পর্যায়ে পৌঁছায়নি। চাকরিজীবীরা বেতন পেতে আরও কয়েক দিন লাগবে।
রাজধানীর ফুটপাতগুলোতে ক্রেতাদের ভিড় অনেক বেশি। গুলিস্তানের ফুটপাতে পোশাক ও বিভিন্ন অনুষঙ্গের দোকানে ঈদ উপলক্ষ্যে উপচে পড়া ভিড় দেখা গেছে। ক্রেতারা সাধ্যের মধ্যে পছন্দের জিনিস মেলায় ফুটপাতকেই প্রাধান্য দিচ্ছেন। নিউ মার্কেট, মতিঝিল, বায়তুল মোকাররম, কারওয়ান বাজার ও ফার্মগেটের ফুটপাতগুলোতেও কেনাকাটার ধুম পড়েছে।
