রাজধানীর নিউমার্কেট থানার পিলখানার বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) কোয়ার্টার থেকে বিবি হালিমা (১১) নামে এক শিশু গৃহকর্মীর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। সে বিজিবির জনসংযোগ কর্মকর্তা শরিফুল ইসলামের বাসার গৃহকর্মী ছিল।
সোমবার সন্ধ্যা ছয়টার দিকে ওই গৃহকর্মীর মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠায় পুলিশ। বিবি হালিমার বাড়ি কামরাঙ্গীরচর থানার ভাঙ্গাড়ীর মোচর এলাকায়। তার বাবার নাম শাহ আলম।
নিউমার্কেট থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আনোয়ার হোসেন খান বলেন, পিলখানা থেকে মরদেহটি বিকেল চারটায় উদ্ধার করা হয়েছে। মরদেহটি গলায় ফাঁস দেওয়া অবস্থায় ছিল। যার বাসা থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয় তিনি বিজিবির কর্মকর্তা এবং তার স্ত্রী একজন চিকিৎসক। মরদেহটি এখন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রয়েছে।
বিজিবির জনসংযোগ কর্মকর্তা শরিফুল ইসলাম জানান, তিনি এবং তার স্ত্রী দুজনেই চাকরি করেন। তার ১১ মাস বয়সী একটি শিশু সন্তান রয়েছে। তার মেয়েটিকে দেখাশোনার জন্য হালিমা নামে এক গৃহকর্মীকে দুই মাস আগে বাসায় রাখা হয়। তার মাও তার পাশের বাসায় কাজ করে।
শরিফুল ইসলাম আরও বলেন, আজ তার রানার বাজার করে দিয়ে বাসা থেকে চলে আসে। রানার জানায় পরে সে বাজারগুলো ফ্রিজে উঠিয়ে রাখে। এরপর ওই রানার তার রেশন তুলতে যায়। পরে সে রেশন তুলে এসে বাসায় লবণ কিনে আবার বাসায় আসে। বাসায় এসে রানার দেখতে পায় তার বাচ্চা একাই খেলছে।
এ সময় সে তার মেয়েকে কোলে নিয়ে হালিমা হালিমা বলে ডাকলেও তার কোনো সাড়াশব্দ পাওয়া যাচ্ছিল না। পরে সে বুঝতে পারে বাথরুমে আছে। এরপর অনেক ডাকাডাকি করলেও সে দরজা খুলে না। পরে সে তাকে ফোন দিয়ে বলে, স্যার দশ মিনিট ধরে আমি দাঁড়িয়ে আছি হালিমা বাথরুমের দরজা খুলছে না, আপনি দ্রুত আসেন।
যেহেতু তার বাসা বিজিবির ভেতর তিনি দুই তিন মিনিটের মধ্যে দ্রুত বাসায় চলে যান। পরে দরজা অনেক ধাক্কাধাক্কি করেন, কিন্তু খুলে না। এ সময় থানা পুলিশকে খবর দিলে থানা পুলিশ এসে দরজা ভেঙে দেখে শাওয়ারের সঙ্গে গলায় ফাঁস দিয়ে সে ঝুলে আছে। পরে পুলিশ তার মরদেহ উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায়।
