সেচ সাশ্রয়ে স্বস্তিতে কৃষক, বৃষ্টিতে বাঁচল ৫০ কোটি টাকা

সেচ সাশ্রয়ে স্বস্তিতে কৃষক, বৃষ্টিতে বাঁচল ৫০ কোটি টাকা

রংপুরে গত দুদিন ধরে হালকা ও মাঝারি বৃষ্টি হয়েছে। বৃষ্টির কারণে হাসির ঝিলিক ও স্বস্তি দেখা গেছে কৃষকের মুখে। বিশেষ করে বোরো আবাদে সেচ নিয়ে যখন দুশ্চিন্তায় কৃষক, তখন আশীর্বাদ হয়ে নেমে এসেছে বৃষ্টি।

কৃষকেরা জানিয়েছেন, বৃষ্টিতে শুকিয়ে যাওয়া ফসলের ক্ষেত পানিতে ভরে গেছে। এতে আগামী দুই থেকে তিনটি সেচ সাশ্রয় হয়েছে কৃষকের। ফলে সেচ খাতে ৫০ কোটি টাকার অর্থ সাশ্রয় হচ্ছে। কমবে বোরোর উৎপাদন খরচও।

জানা গেছে, এ অঞ্চলের কৃষকেরা বোরো ফসলের ওপর নির্ভরশীল। এখন বোরো চাষাবাদের উপযুক্ত সময়। খরা আর জ্বালানি সংকটে অনেকেই বৃষ্টির জন্য কৃষকেরা অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছিলেন। অবশেষে দেখা মেলে সেই কাঙ্ক্ষিত বৃষ্টির। এতে কৃষকেরা উচ্ছ্বসিত।

সদর উপজেলার চন্দনপাটের কৃষক আবুল হোসেন বলেন, এবার তিনি ছয় দোন (২৪ শতকে এক দোন) জমিতে বোরো ধান আবাদ করেছেন। বৃষ্টি না হওয়ায় চারাগুলো খরায় লালচে হয়ে নষ্ট হয়ে যাচ্ছিল। এতে তিনি দুশ্চিন্তায় ছিলেন। অবশেষে বৃষ্টি হওয়ায় তিনি খুশি। আশা করছেন শিগগিরই চারা থেকে ধান বের হবে।

রংপুর কৃষি বিভাগ সূত্র জানায়, দোনপ্রতি কৃষকের একবার সেচ দিতে খরচ হয় প্রায় ১২৫ টাকা। তিনবার সেচ দিতে দোনপ্রতি কমপক্ষে ৩৭৫ টাকা খরচ করলে হেক্টর প্রতি কৃষকের খরচ হতো ৩ হাজার ৭০০ টাকা। এ বছর রংপুরে ১ লাখ ৩২ হাজার ৮৩৫ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ হয়েছে। হিসাব অনুযায়ী কৃষকের সেচ সাশ্রয় হচ্ছে প্রায় ৫০ কোটি টাকা।

রংপুর মিঠাপুকুর উপজেলার ইসলামপুরের কৃষক আজিজার রহমান বলেন, ডিজেল নিয়ে সংকটের মাঝে আমরা অনেক কৃষক ঠিকমতো সেচ দিতে পারি নাই। শনিবার থেকে শুরু হওয়া বৃষ্টিতে ক্ষেতগুলো পানিতে পরিপূর্ণ হয়ে গেছে। কমপক্ষে তিনটি সেচ আমাদের বেঁচে গেল। এতে ধানের আবাদ ভালো হবে। তবে ভারী বৃষ্টি হতে থাকলে নিচু জমিগুলোতে জলাবদ্ধতা দেখা যাবে। আমরা আবহাওয়া দেখে ফসলের দিকে নজর রাখছি।

রংপুর নগর মীরগঞ্জ এলাকার কৃষক হারুন উর রশিদ বলেন, বৃষ্টি হলে কিছু মানুষের ক্ষতি হয় বটে। কিন্তু সবচেয়ে বেশি উপকৃত হয় সেচ নির্ভর বোরো চাষিরা। এখন সার, কীটনাশকের বেশি দামের কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। জ্বালানি সংকটও চলছে। এ পরিস্থিতিতে বৃষ্টির কারণে সেচ কম লাগবে বলে কিছুটা লাঘব হবে।

তিনি আরও বলেন, বর্তমানে আমার ক্ষেত পানিতে পরিপূর্ণ। উঁচু জমি হওয়ায় বৃষ্টি নিয়ে কোনো ধরনের সমস্যা হবে না। এছাড়া বৃষ্টিতে ক্ষেতে পানি জমায় নানা ধরনের পোকা-মাকড়ের হাত থেকে ফসল রক্ষা পাবে।

রংপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক সিরাজুল ইসলাম বলেন, রংপুরে বৃষ্টিপাত কৃষকের জন্য আশীর্বাদ হয়েছে। এতে কৃষকের সেচ সাশ্রয় হওয়ায় উৎপাদন খরচ কমেছে। শনিবার ও রোববার রংপুর জেলার ৮ উপজেলা ও রংপুর কৃষি অঞ্চলের ৫টি জেলাতেই বৃষ্টি হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, বর্তমানে ধানের প্রজনন মৌসুম চলছে। এ সময় ক্ষেতে পানির প্রয়োজন ছিল। যে পরিমাণ বৃষ্টি হয়েছে, আগামী ১০ থেকে ১২ দিন ক্ষেতে পানি দেওয়ার প্রয়োজন পড়বে না। যদি এমন আবহাওয়া বিরাজ করে, তবে এবার কম সেচেই বোরো উৎপাদন করা যাবে। এছাড়া বোরো ক্ষেতে জলাবদ্ধতা নিরসনের জন্য কৃষকদের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

এদিকে রংপুর আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, রংপুরসহ পার্শ্ববর্তী এলাকায় গভীর সঞ্চালনশীল মেঘমালা তৈরি হতে পারে। এতে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত রংপুর বিভাগে ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস রয়েছে। অস্থায়ী জলাবদ্ধতাও দেখা দিতে পারে।

আবহওয়া অফিস শনিবার থেকে সোমবার সকাল ৯টা পর্যন্ত ৪৮ ঘণ্টায় রংপুরে ১৭৭ দশমিক ২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করেছে।

রংপুর আবহওয়া কর্মকর্তা মোস্তাফিজার রহমান বলেন, রংপুরে বজ্রসহ ভারী বৃষ্টিপাত হচ্ছে। এটি ৪ দিন ধরে চলমান থাকার পূর্বাভাস রয়েছে। এ তথ্য কৃষি বিভাগসহ সংশ্লিষ্টদের জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। তারা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করছে। যেহেতু বজ্রপাত হচ্ছে, তাই সাধারণ মানুষকে চলাচলের ক্ষেত্রে সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে।

আরও পড়ুন