হালিমে মাছি পাওয়ায় হোটেল কর্মচারীকে লাঞ্ছিত করার অভিযোগ

হালিমে মাছি পাওয়ায় হোটেল কর্মচারীকে লাঞ্ছিত করার অভিযোগ

হালিমে মাছি পাওয়ায় এক হোটেল কর্মচারীকে লাঞ্ছিত করার অভিযোগ উঠেছে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদের (জাকসু) এক নেতার বিরুদ্ধে।

গত মঙ্গলবার রাতে ক্যাম্পাসের বটতলা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। বুধবার রাতে প্রতিবাদের অংশ হিসেবে অন্তত ২৫টি দোকান বন্ধ রাখেন ব্যবসায়ীরা। দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দিলে প্রক্টোরিয়াল টিমের সদস্যরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসেন।

শিক্ষার্থীদের ভাষ্য অনুযায়ী, জাকসুর স্বাস্থ্য ও খাদ্য নিরাপত্তাবিষয়ক সম্পাদক হোসনে মোবারক ‘হাবিব ভাইয়ের হোটেল’-এ খেতে গিয়ে খাবারে মাছি দেখতে পেয়ে এক কর্মচারীর সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেন। এক পর্যায়ে তিনি হালিমের বাটি ছুড়ে মারলে তা কর্মচারী শাহাবুদ্দিনের গায়ে লাগে।

ভুক্তভোগী শাহাবুদ্দিন ঘটনার বর্ণনা দেন যে, মোবারক তার চাচাকে জোর করে খাবার খাওয়ানোর চেষ্টা করেন। এরপর তিনি রাগের মাথায় হালিমের বাটিটি তার দিকে ছুড়ে মারেন।

এ ঘটনার পর ক্যাম্পাসের ফেসবুক গ্রুপগুলোতে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়। সাধারণ শিক্ষার্থীরা প্রশ্ন তোলেন, একজন নির্বাচিত প্রতিনিধি কীভাবে আইন নিজের হাতে তুলে নিতে পারেন।

বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের জাবি সংসদের সাধারণ সম্পাদক ফাইজান আহমেদ অর্ক বলেন, মোবারকের আচরণ একজন শিক্ষার্থীর জন্য শোভনীয় নয়। তিনি বিষয়টি প্রশাসনের মাধ্যমে জানাতে পারতেন।

বুধবার রাত ৮টা থেকে দোকানদাররা প্রতিবাদ হিসেবে দোকান বন্ধ রাখলে শিক্ষার্থীরা স্লোগান দিতে থাকে। জাকসুর কার্যনির্বাহী সদস্য মোহাম্মদ আলী চিশতি দোকান বন্ধ রাখার বিরোধিতা করলে দুই পক্ষের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়।

অভিযুক্ত নেতা হোসনে মোবারক শারীরিক লাঞ্ছনার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তিনি পচা খাবার দেওয়ার প্রতিবাদে বাটিটি ছুড়ে মেরেছেন।

জাকসুর সহ-সভাপতি (ভিপি) আবদুর রশিদ জিতু জানান, খাবারের মান নিয়ে সমস্যা থাকলে আইনি প্রক্রিয়া আছে। কাউকে উদ্দেশ্য করে খাবার ছুড়ে মারা অনুচিত। অভিযোগ প্রমাণিত হলে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

প্রায় তিন ঘণ্টা বন্ধ থাকার পর রাত ১১টার দিকে দোকানগুলো আবার খুলে দেওয়া হয়। সহকারী প্রক্টর আব্দুর রাজ্জাক জানান, বিষয়টি সমাধানের জন্য বৃহস্পতিবার উভয় পক্ষকে নিয়ে বসা হবে।

আরও পড়ুন