কুমিল্লায় অর্পিতা নওশিন নামের এক মেডিকেল শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করেছেন। গত শুক্রবার রাতে কুমিল্লা সেন্ট্রাল মেডিকেল কলেজের ক্যাম্পাসের মহিলা হোস্টেল থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। আত্মহত্যার পেছনে এক শিক্ষকের মানসিক নির্যাতনের অভিযোগ করেছেন তার সহপাঠি এবং পরিবার।
অর্পিতা নওশিন কুমিল্লা সেন্ট্রাল মেডিকেল কলেজের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। তিনি খুলনা সদর উপজেলার বাসিন্দা। তার মৃত্যুর পেছনে কলেজের এনাটমি বিভাগের এক শিক্ষকের মানসিক অত্যাচার রয়েছে বলে দাবি করেছেন তার সহপাঠী এবং পরিবার। মানসিক চাপ থেকে ১০৯টি ঘুমের ওষুধ খেয়ে আত্মহত্যা করেন নওশিন।
নাম গোপন রাখার শর্তে অর্পিতার সহপাঠীরা বলেন, প্রথম বর্ষেই কলেজের এনাটমি বিভাগের এক শিক্ষকের রোষানলে পড়ে সে। এরপর প্রথম প্রফেশনাল পরীক্ষায় সব বিষয়ে উত্তীর্ণ হলেও এনাটমি বিষয়ে অকৃতকার্য হতে হয় তাকে। গত তিন বছরে আরও ৪ বার এনাটমির পরীক্ষা দিয়েছেন নওশিন, কিন্তু প্রত্যেকবারই পরীক্ষায় ফেল এসেছে।
একাধিক সহপাঠী জানান, গত ৮ মার্চ চট্টগ্রাম মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় তাদের ব্যাচের তৃতীয় প্রফেশনাল পরীক্ষার ফল প্রকাশ হয়। ২০২১-২২ সেশনের সবাই এখন পঞ্চম বর্ষে পড়ছেন, কিন্তু অর্পিতা নওশিন এখনও প্রথম প্রফেশনাল পরীক্ষাই উত্তীর্ণ হতে পারেননি। জুনিয়রদের সাথে তার ক্লাস করতে হচ্ছে, যা তাকে মানসিকভাবে বিপর্যপ্ত করেছিল।
অর্পিতা নওশিনের ভাই শাহরিয়ার আরমান সাংবাদিকদের বলেন, বৃহস্পতিবারও বোনের সঙ্গে তিনি কথা বলেছেন। তিনি বলেন, ‘আমার বোনের এরকম কোনো মানসিকতা নেই যে সে আত্মহত্যা করবে। শিক্ষকের মানসিক চাপ থেকে এটা হয়তো করেছে। নওশিন বারবার এনাটমি বিভাগের মনিরা ম্যাডামের কথা বলত। একদম ফার্স্ট ইয়ার থেকে আমার বোনকে মানসিক নিপীড়ন করেছেন তিনি।’ তিনি ওই শিক্ষকের বিচার দাবি করেন।
এ ঘটনায় একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে মেডিকেল কলেজ কর্তৃপক্ষ বলে জানিয়েছেন কলেজ অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. ফজলুল হক লিটন। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘এমন মৃত্যু আমাদের মর্মাহত করেছে। তবে কোনো শিক্ষকের অবহেলার কারণে যদি তার মৃত্যু হয়ে থাকে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ তিনি আরও বলেন, ৩ সদস্যের তদন্ত কমিটি কাজ শুরু করেছে এবং পুলিশও আলাদা তদন্ত করছে।
এ বিষয়ে শিক্ষক ডা. মুনিরা জহিরের মোবাইল নম্বরে কল করা হলে তিনি কেটে দেন। পরে তার মোবাইল নম্বর বন্ধ পাওয়া যায় এবং হোয়াটসঅ্যাপে ক্ষুদে বার্তা দিলেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।
কুমিল্লা সদর দক্ষিণ মডেল থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ সিরাজুল মোস্তফা বলেন, মেডিকেল ছাত্রীর মরদেহ রাতে উদ্ধার হয়। ময়নাতদন্তের জন্য মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। কী কারণে তার মৃত্যু হয়েছে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন আসার পরই নিশ্চিত হওয়া যাবে। কেউ কোনো লিখিত অভিযোগ দেননি এবং ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের কাছে মরদেহ হস্তান্তর করা হয়েছে।
