ইরানের খারগ দ্বীপে হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, দাবি করেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
তিনি জানান, শুক্রবার এই হামলা লক্ষ্যবস্তু ছিল ইরানের প্রধান তেল রপ্তানিকেন্দ্রের সামরিক স্থাপনা। ট্রাম্প সতর্ক করে বলেন, যদি হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল বিঘ্নিত করার মতো ইরানি হামলা না থামে, তবে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের তেল অবকাঠামোতে আঘাত হানবে।
ট্রাম্প সোশ্যাল মিডিয়ায় লিখেছেন, মার্কিন সেনারা খারগ দ্বীপের ‘প্রতিটি সামরিক লক্ষ্যবস্তু’ নিশ্চিহ্ন করেছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, যদি ইরান বা অন্য কেউ হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করে, তবে তিনি তার পূর্বের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করবেন।
মার্কিন প্রেসিডেন্টের এই হুমকি তেলের বাজারকে অস্থিতিশীল করে তুলতে পারে। আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থার তথ্যমতে, বর্তমানে বাজার ইতিহাসের সবচেয়ে বড় তেল সরবরাহ সংকটের মধ্যে রয়েছে।
তিনি দাবি করেন, ইরানের সামরিক বাহিনী এবং সরকারের উচিত হবে অস্ত্র ত্যাগ করা এবং তাদের দেশের অবশিষ্ট সম্পদ রক্ষা করা। খারগ দ্বীপ ইরানের উপকূল থেকে ১৬ মাইল দূরে এবং হরমুজ প্রণালীর ৩০০ মাইল উত্তর-পশ্চিমে অবস্থিত।
এদিকে, উপসাগরীয় অঞ্চলের অন্যান্য তেল উৎপাদক দেশগুলো ইরানি হামলার ভয়ে তাদের চালান বন্ধ করে দিলেও ইরান অপরিশোধিত তেল রপ্তানি অব্যাহত রেখেছে। বুধবার খারগ দ্বীপে একাধিক তেলবাহী ট্যাঙ্কার লোড করা হচ্ছিল। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে ইরান প্রতিদিন ১১ লাখ থেকে ১৫ লাখ ব্যারেল তেল রপ্তানি করেছে।
মার্কিন হামলায় দ্বীপটির পাইপলাইন, টার্মিনাল এবং তেল সংরক্ষণ ট্যাঙ্কের ক্ষতি হয়েছে কি না, সেদিকে বাজার নিবিড়ভাবে নজর রাখবে। সরবরাহে কোনো সমস্যা দেখা দিলে, তা বিশ্বব্যাপী তেলের জোগানকে আরও সংকটে ফেলবে।
