নতুন পে স্কেল বাস্তবায়নে বাজেট খরচে সংকট দেখা দিয়েছে

নতুন পে স্কেল বাস্তবায়নে বাজেট খরচে সংকট দেখা দিয়েছে

বিএনপি সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের পর ইরান-ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধ শুরু হয়েছে, যা বাংলাদেশের অর্থনীতিতে ব্যাপক প্রভাব ফেলেছে। এর ফলে জ্বালানির সংকট শুরু হয়েছে এবং সরকারের রাজস্ব ঘাটতি ৬০ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে গেছে। অর্থনৈতিক সংকটের কারণে নতুন পে স্কেল বাস্তবায়নের বিষয়ে ধীরে চলো নীতি গ্রহণ করেছে সরকার, যার ফলে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য দীর্ঘ প্রতীক্ষিত নতুন জাতীয় পে স্কেল বাস্তবায়ন নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

২০২৫-২৬ অর্থবছরের বাজেটে সংরক্ষিত ৪০ হাজার কোটি টাকার মধ্যে অধিকাংশই ইতোমধ্যে অন্যান্য খাতে ব্যয় হয়েছে। এর মধ্যে ২৪ হাজার কোটি টাকা জ্বালানি ভর্তুকিতে এবং ১৫ হাজার কোটি টাকা কৃষকদের ঋণ সহায়তা ও সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচিতে ব্যয় করা হয়েছে। ফ্যামিলি কার্ড প্রকল্পের জন্যও ৩৮ কোটি ৭ লাখ টাকা খরচ হয়েছে। ফলে পে স্কেলের জন্য মাত্র ৯৬১ কোটি ৯৩ লাখ টাকা অবশিষ্ট রয়েছে।

অর্থ বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে বিপুল অর্থ ব্যয় প্রয়োজন এমন পে স্কেল বাস্তবায়ন করা বাস্তবসম্মত নয়। আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতার কারণে সরকারের আর্থিক পরিকল্পনায় বড় প্রভাব পড়েছে। সরকারি কর্মচারীরা হতাশা প্রকাশ করলেও তারা আশা করছেন, অন্তত আংশিক কোনো সমন্বয় হলে কিছু স্বস্তি পাওয়া সম্ভব হবে।

নতুন পে স্কেলে সর্বনিম্ন ২০ হাজার ও সর্বোচ্চ ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা বেতনের প্রস্তাব করা হয়েছে। সুপারিশ অনুযায়ী, কমিশন মোট ২০টি গ্রেডে বেতন স্কেল সুপারিশ করেছে। সর্বনিম্ন বেতন স্কেল ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ বেতন স্কেল ৭৮ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

গত বছরের ২৭ জুলাই সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য নতুন বেতন কাঠামো প্রণয়নের লক্ষ্যে ২১ সদস্য নিয়ে বেতন কমিশন গঠিত হয়। সাবেক অর্থ সচিব জাকির আহমেদ খান কমিশনের প্রধান হিসেবে নিযুক্ত হন। কমিশনকে ছয় মাসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয় এবং চলতি বছরের ২১ জানুয়ারি কমিশন তাদের সুপারিশ জমা দিয়েছে।

আরও পড়ুন