ইরান যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের আগ্রাসন বন্ধে তাদের দাবির তালিকায় হরমুজ প্রণালিতে সার্বভৌমত্বের স্বীকৃতি যুক্ত করেছে। বিশ্বের মোট তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের এক-পঞ্চমাংশ এই প্রণালি দিয়ে পরিবহণ করা হয়। ইরান এখন এটিকে কৌশলগত হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে আয়ের উৎস ও বৈশ্বিক অর্থনীতিতে চাপ সৃষ্টির কেন্দ্রে পরিণত করতে চাইছে।
ইরানের হামলার কারণে এই নৌপথে জাহাজ চলাচল প্রায় থমকে গেছে, যার ফলে বৈশ্বিক জ্বালানিবাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। ব্লুমবার্গ ইকোনমিকসের মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক প্রধান দিনা এসফানদিয়ারি বলেন, ইরান তুলনামূলক কম খরচে বৈশ্বিক অর্থনীতিকে চাপে রাখার এই সক্ষমতা বুঝতে পেরেছে এবং ভবিষ্যতে তা পুনরায় ব্যবহারের সম্ভাবনা রয়েছে।
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও সতর্ক করে বলেছেন, যুদ্ধের পর হরমুজে ইরানের টোল-ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার চেষ্টা তাৎক্ষণিক চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে। তিনি একে অবৈধ, অগ্রহণযোগ্য ও বিপজ্জনক বলে উল্লেখ করেছেন। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি হরমুজ প্রণালির কৌশলগত গুরুত্বের কথা উল্লেখ করে বলেছেন, এই জলপথ বন্ধ করার সক্ষমতা ব্যবহার করে যেতে হবে।
ইরানের আইনপ্রণেতারা একটি বিল অনুমোদনের কথা বিবেচনা করছেন, যার আওতায় হরমুজ প্রণালি দিয়ে জ্বালানি ও পণ্য পরিবহণকারী দেশগুলোর কাছ থেকে টোল আদায় করা হবে। মার্কিন নেভাল ওয়ার কলেজের অধ্যাপক জেমস ক্রাস্কা বলেন, আন্তর্জাতিক প্রণালিতে টোল ধার্য করা আন্তর্জাতিক নিয়মের লঙ্ঘন, কারণ সব দেশের প্রভাবমুক্তভাবে চলাচলের অধিকার রয়েছে।
সিএনএনের হিসাব অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালি দিয়ে দিনে প্রায় ২ কোটি ব্যারেল অপরিশোধিত তেল চলাচল করে। প্রতি ট্যাংকারের জন্য ২০ লাখ ডলার ফি ধরা হলে দৈনিক আয় প্রায় ২ কোটি ডলার হতে পারে, যা মাসে ৬০ কোটি ডলারে দাঁড়ায়। এলএনজি যোগ করলে আয় মাসে ৮০ কোটি ডলারের বেশি হতে পারে, যা ইরানের মাসিক তেল রপ্তানি আয়ের ১৫ থেকে ২০ শতাংশের সমান।
দিনা এসফানদিয়ারি বলেন, ইরান নিষেধাজ্ঞার কারণে সৃষ্ট অর্থনৈতিক ঘাটতি পূরণের উপায় হিসেবে এই ফি নেওয়াকে দেখছে। ইরান বারবার বলেছে, শত্রুভাবাপন্ন নয় এমন দেশগুলো সমন্বয়ের ভিত্তিতে এই পথ ব্যবহার করতে পারবে। জাহাজ শনাক্তকারী উপাত্ত বিশ্লেষণে দেখা যায়, কিছু ট্যাংকার ইরান উপকূলের কাছে একটি পথ ব্যবহার করছে।
লয়েডস লিস্ট বলেছে, ২০টির বেশি জাহাজ হরমুজ প্রণালি দিয়ে একটি নতুন করিডর ব্যবহার করেছে, যার মধ্যে কমপক্ষে দুটি জাহাজ অর্থ পরিশোধ করেছে বলে ধারণা করা হয়। ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড অনুমোদিত জাহাজের জন্য নিবন্ধনব্যবস্থা তৈরি করেছে এবং কিছু দেশ সরাসরি তেহরান কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করছে।
