পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ বলেছেন, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধে এখন পর্যন্ত ছয়জন বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন। যার মধ্যে তিনজনের মরদেহ দেশে এসেছে। শনিবার দুপুরে ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
শামা ওবায়েদ বলেন, বিএনপির দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ শুরু হয়েছে। এতে প্রভাবিত হচ্ছে মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত আমাদের দেশের প্রবাসীরা। যুদ্ধের কারণে আমাদের দেশের অর্থনীতি ও অন্যান্য দ্রব্যের মূল্য সহনীয় পর্যায়ে যাতে থাকে, সেজন্য বর্তমান সরকার দিনরাত কাজ করে যাচ্ছে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ ছাড়া পৃথিবীর সকল দেশেই জ্বালানি তেলের দাম বেড়েছে, অনেক দেশে দ্বিগুণ পর্যন্ত বেড়ে গেছে। যুক্তরাষ্ট্রেও জ্বালানির দাম ৫০% বেড়ে গেছে। সিঙ্গাপুর, শ্রীলঙ্কা ও ভারতসহ সব জায়গায় জ্বালানি তেলের দাম প্রচুর বেড়েছে। কিন্তু বাংলাদেশে জ্বালানির দাম এখনো বাড়েনি। এটা বর্তমান সরকারের সফলতা।
শামা ওবায়েদ বলেন, জনগণকে দীর্ঘমেয়াদি চিন্তা করতে হবে। যদি আমাদের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করতে হয়, তাহলে আমাদের জ্বালানি তেলের দামে কিছু একটা অ্যাডজাস্টমেন্ট হতে পারে। সেটাও জনগণকে নিরাপদ জায়গায় রেখে হতে হবে।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে যাওয়ার ক্ষেত্রে যেসব প্রবাসী বাংলাদেশির ভিসা নিয়ে জটিলতা হচ্ছে, তাদের ভিসার মেয়াদ বাড়ানোর বিষয়ে সরকার কূটনৈতিক তৎপরতা চালাচ্ছে। তিনি বলেন, বিদেশে লোক পাঠানোর কথা বলে যেভাবে অপরাধী চক্র বিভিন্ন অসহায় মানুষের কাছ থেকে টাকা হাতিয়ে নেয়, এদের ব্যাপারে সকলকে সতর্ক থাকতে হবে।
শামা ওবায়েদ বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান সৌদি আরবে প্রথম লোক পাঠিয়ে প্রথম শ্রমবাজার উন্মুক্ত করেছিলেন। সেই ধারাবাহিকতায় বিএনপি সরকার যখনই দায়িত্বে এসেছে, তখনই কিন্তু মধ্যপ্রাচ্যের সকল দেশের সঙ্গে আমাদের একটি সুসম্পর্ক ছিল। মধ্যপ্রাচ্যের সকল দেশের সঙ্গে সুসম্পর্ক থাকার কারণে যুদ্ধের সময়ও ইরানসহ সকল দেশ বাংলাদেশকে একটি বন্ধু রাষ্ট্র হিসেবে মর্যাদা দিচ্ছে।
নগরকান্দা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, এর আগেও আমি এই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এসেছি। তখনও দেখেছি এর অবস্থা করুণ। আজকে দেখে আমি অত্যন্ত ব্যথিত। মানদণ্ডের দিক দিয়ে এটি কোনো পর্যায়ে পড়ে না। এখানে প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি ও লোকবল নেই।
এ সময় ফরিদপুরের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ কামরুল হাসান মোল্লা, পুলিশ সুপার মো. নজরুল ইসলাম, সিভিল সার্জন মো. মাহমুদুল হাসান, নগরকান্দা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলাম, সহকারী পুলিশ সুপার (নগরকান্দা সার্কেল) মাহমুদুল হাসান, উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি হাবিবুর রহমান, সাবেক সাধারণ সম্পাদক সাইফুর রহমান, সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক শওকত আলী শরীফ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
