গাইবান্ধার পলাশবাড়ী থানায় ঢুকে ওসিসহ পুলিশ সদস্যদের মারধরের ঘটনায় দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। রোববার দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন পলাশবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সারোয়ারে আলম খান। শনিবার রাত দেড়টার দিকে উপজেলার দিঘলকান্দি গ্রাম থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, উপজেলা জামায়াতের যুব বিভাগের বায়তুল মাল সম্পাদক পলাশ (৩৫) ও গোলজার রহমান (৩৪)। পলাশ আহম্মেদ উপজেলা সদরের উদয়সাগর গ্রামের নূর মোহাম্মদের ছেলে ও গোলজার উপজেলা সদরের বৈরীহরিনমারী গ্রামের মধু মিয়ার ছেলে। গোলজার এ মামলার ৪ নম্বর আসামি।
এর আগে গ্রেপ্তার হওয়া দুই আসামি হলেন, পলাশবাড়ী উপজেলা জামায়াতের পেশাজীবী বিভাগের সেক্রেটারি গৃধারীপুর গ্রামের গোলাম মোস্তফার ছেলে মিজানুর রহমান মিজান (৩৪) ও একই গ্রামের মৃত মোহাম্মদ আলীর ছেলে তৌহিদুল ইসলাম কাকন (৩৫)। কাকনকে ঘটনার দিনই ঘটনাস্থল থেকেই গ্রেপ্তার দেখানো হয়। মিজানুর রহমান মিজানকে গ্রেপ্তার করা হয় ২৬ মার্চ রাতে।
গত ২৫ মার্চ রাত ১০টার কিছু সময় আগে পলাশবাড়ী উপজেলা জামায়াতের যুব বিভাগের বায়তুল মাল সম্পাদক মাহমুদুল হাসান পলাশ কয়েকজন যুবককে সঙ্গে নিয়ে একটি অভিযোগ পত্রসহ পলাশবাড়ী থানায় যান এবং ওসির সঙ্গে কথাবার্তার এক পর্যায়ে তর্কবিতর্কের সৃষ্টি হয়। পুলিশের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, পলাশ থানার ওসিকে তাৎক্ষণিকভাবে অমীমাংসিত একটি খোলা ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করতে বলেন এবং চাপ প্রয়োগ করেন।
ওসি রাজি না হলে ওই নেতাসহ তার সঙ্গে থাকা যুবকেরা ওসির ওপর চড়াও হন। এক পর্যায়ে ওসিকে আক্রমণসহ মারধর করেন। এসময় উপস্থিত পুলিশ সদস্যরা বাধা দিতে গেলে তাদেরকেও মারধর করা হয়, এতে এক নারী কনস্টেবলসহ পুলিশের ৯ সদস্য আহত হয়। এ ঘটনায় পলাশবাড়ী থানার আহত এএসআই রুহুল আমিন বাদী হয়ে ২৬ মার্চ নামীয় ৯ জন ও ১২ থেকে ১৩ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করে মামলা করেন।
মামলার পলাতক আসামিরা হলেন, গিরিধারীপুর গ্রামের মৃত জায়দাল হকের ছেলে মাহফুজ রহমান সিনহা (২৮), দুলা ফকিরের ছেলে সাদ্দাম হোসেন (৩০), শাওন (৩৫), পূর্ব গোপিনাথপুর গ্রামের বাকী মিয়ার ছেলে সবুজ মিয়া (৩২) ও জামালপুর গ্রামের মৃত তোফাজ্জল মিয়ার ছেলেদ আব্দুল মালেক (৩৭)।
পলাশবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সারোয়ারে আলম খান বলেন, গতরাত দেড়টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশের ওপর হামলার দুইজন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদেরকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানোর বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন। এখন পর্যন্ত এ মামলার চারজন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হলো, অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।
