সিলেট-আখাউড়া রেলপথে ঝুঁকি ও যাত্রীদের ভোগান্তি

সিলেট-আখাউড়া রেলপথে ঝুঁকি ও যাত্রীদের ভোগান্তি

সিলেট-আখাউড়া রেলপথে পুরোনো অবকাঠামো ও ইঞ্জিন সংকটের কারণে যাত্রীদের ভোগান্তি বাড়ছে। গত এক মাসে এই রুটে অন্তত ৫০টি ট্রেন ইঞ্জিন বিকল বা আংশিক বিকল হয়ে বিলম্বিত হয়েছে। টানা তিন দিনে বড় ধরনের তিনটি দুর্ঘটনা ঘটেছে, যার মধ্যে হবিগঞ্জের মাধবপুরে তেলবাহী ট্রেনের ওয়াগন লাইনচ্যুত হয়ে ১৪ ঘণ্টা রেল যোগাযোগ বন্ধ ছিল।

গত এক সপ্তাহে সিলেট রুটে চারটি আলোচিত দুর্ঘটনা ঘটেছে। ২ এপ্রিল হবিগঞ্জে তেলবাহী ট্রেন লাইনচ্যুত হয়, ১ এপ্রিল কুমিল্লায় উদয়ন এক্সপ্রেসের তিনটি বগি বিচ্ছিন্ন হয়, ৩১ মার্চ মৌলভীবাজারে উপবন এক্সপ্রেসের ইঞ্জিন বিকল হয় এবং ২৬ মার্চ ভৈরব বাজারে একটি ট্রেন লাইনচ্যুত হয়। এসব ঘটনায় যাত্রী ও পর্যটকরা চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।

ব্রিটিশ শাসনামলে ১৮৯৮ সালে স্থাপিত এই রেলপথে পুরোনো ইঞ্জিন ও দুর্বল অবকাঠামো নিয়মিত সমস্যা সৃষ্টি করছে। পাহাড়ি এলাকায়, বিশেষ করে রাতে, ইঞ্জিন বিকল হওয়ার ঘটনা ঘন ঘন ঘটে। ঢাকা ও চট্টগ্রাম থেকে সিলেট রুটে প্রতিদিন ছয়টি আন্তঃনগর ট্রেন চলে, যাতে প্রায় ৩০ থেকে ৩৫ হাজার যাত্রী চলাচল করেন। বছরে প্রায় ১০ কোটি যাত্রী ভোগান্তির মুখোমুখি হন।

রেলপথে ২৬১০, ২৯০২সহ বেশ কিছু পুরাতন ইঞ্জিন ব্যবহার করা হচ্ছে, যা লাউয়াছড়া বনাঞ্চলের পাহাড়ি এলাকায় উঠার সময় বিকল হয়ে যায়। এছাড়া অন্তত দশটি সেতু ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে এবং রেললাইন থেকে নাট, বল্টু ও ক্লিপ চুরির ঘটনা ঘটছে। তীব্র গরমে লাইন বাঁকা হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে, কিন্তু নতুন রেললাইন বা বড় ধরনের মেরামতের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে না।

বাংলাদেশ রেলওয়ের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (রোলিং স্টক) আহমেদ মাহবুব চৌধুরী বলেন, ‘আমিও বুঝতে পারছি না হঠাৎ করে এই রুটে কেন এই সমস্যাটা বেড়ে গেল। এর বিশেষ কোনো কারণ আছে কিনা দেখতে হবে। ঈদের পর থেকে বেশি সমস্যা হচ্ছে। হবিগঞ্জের তেলবাহী ট্রেন লাইনচ্যুত হওয়ার ঘটনায় ৫ সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।’

অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অবকাঠামো) আল ফাত্তাহ মো. মাসউদুর রহমান বলেন, ‘সারাদেশে ৮৫টি রেল ইঞ্জিন প্রয়োজন, কিন্তু আমাদের আছে ৭০ শতাংশ। নতুন করে এডিপির একটি প্রকল্প শুরু করেছি, আগামী দুই থেকে তিন বছরের মধ্যে এর সমস্যা সমাধান হবে। পূর্বাঞ্চলের রেললাইন পুনর্বাসনের জন্য একটি নতুন প্রকল্প অনুমোদন প্রক্রিয়াধীন আছে।’

যাত্রীরা দাবি জানিয়েছেন, সিলেট-আখাউড়া রেলপথ দ্রুত দুই লাইনে করা হোক এবং পুরাতন ইঞ্জিন পরিবর্তন করে নতুন ইঞ্জিন যুক্ত করা হোক। প্রবাসী শওকত আহমেদ বলেন, ‘শমশেরনগর রেলস্টেশন থেকে জয়েন্তিকা ট্রেন দুপুর দেড়টার আসার কথা থাকলেও বিকেল ৪টায় এসেছে। পরে আমি গাড়ি রিজার্ভ করে ঢাকা এসেছি।’ উপবন এক্সপ্রেসের যাত্রী আমির উদ্দিন বলেন, ‘সিলেটের ট্রেন যাত্রীদের সাথে নিয়মিত এমন ঘটনা ঘটছে। রেলপথ যেন এখন কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে।’

আরও পড়ুন