‘রাজনীতির জন্য আমৃত্যু সময় আছে, ক্রিকেটের সময়টা কম’

‘রাজনীতির জন্য আমৃত্যু সময় আছে, ক্রিকেটের সময়টা কম’

দেশের ইতিহাসের সফলতম ক্রিকেটার সাকিব আল হাসান প্রায় দুই বছর ধরে দেশের বাইরে আছেন। আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক সংসদ সদস্য ২০২৪ সালে তার দলের পতনের পর আর দেশে ফিরতে পারেননি। তবে বিএনপি সরকারের যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক জানিয়েছেন, আইনি জটিলতা কাটিয়ে উঠতে পারলে সাকিবকে স্বাগত জানানো হবে। বর্তমানে নিউ ইয়র্কে পরিবারের সঙ্গে থাকা সাকিব দ্য ডেইলি স্টারকে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে তার দেশে ফেরার ইচ্ছা, নিজের রাজনৈতিক অবস্থান ও অন্য অনেক বিষয়ে খোলামেলা কথা বলেছেন।

দেশের বাইরে থাকা নিয়ে সাকিব বলেন, ‘স্বাভাবিকভাবে যেকোনো মানুষই যখন তার দেশে যেতে পারে না, তখন সে অবশ্যই দেশকে মিস করবে। আমার ক্ষেত্রেও তার কোনো ব্যতিক্রম নেই; আমিও দেশটাকে ভীষণভাবে মিস করছি। আশা করছি দ্রুতই দেশে ফিরতে পারব, সেটা হলে অবশ্যই ভালো লাগবে।’

দেশে ফেরার সম্ভাবনা সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘আমি আশাবাদী, সবসময়ই একজন আশাবাদী মানুষ ছিলাম। আইনি প্রক্রিয়াগুলোর কাজ শুরু হয়েছে। এখন যত দ্রুত সম্ভব যদি আমি সমাধান করতে পারি…না না হলে হয়ত সময় লাগবে। কিন্তু আমি চেষ্টা করছি দ্রুত যেন সমস্যাগুলোর সমাধান করতে পারি। এখন বিষয়গুলো যত দ্রুত সমাধান করা সম্ভব হবে, আমি তত দ্রুতই ফিরতে পারব।’

বিসিবি বা সরকারের ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ প্রসঙ্গে সাকিব বলেন, ‘আমি যতটুকু জানি বিসিবির মাধ্যমেই যোগাযোগ হচ্ছে (ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে)। আমার সঙ্গে সরাসরি কোন যোগাযোগ হয়নি। আর বিসিবির সঙ্গে মাঝে মাঝে হয়, মাঝে মাঝে হয় না, এরকম অবস্থা। কাজেই নিজের উদ্যোগে সব কিছু করার চেষ্টা করছি। বাকিটা দেখা যাক।’

আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফেরা নিয়ে তিনি বলেন, ‘এটা তো আসলে পরের বিষয় (আন্তর্জাতিক ক্রিকেট চালিয়ে যাওয়া) বা সেকেন্ডারি বিষয়; আমার প্রথম অগ্রাধিকার হলো দেশে ফেরা। বিসিবি বা অন্যদের সাক্ষাৎকার ও মন্তব্যে আমি দেখেছি যে তারা চায় আমি আসি এবং খেলি। কিন্তু যেহেতু একটি আইনি প্রক্রিয়া চলছে, তাই এগুলো শুধু মুখে বললে হবে না, বিষয়গুলো সমাধান করে আসতে হবে।’

বিসিবির ভূমিকা সম্পর্কে সাকিব বলেন, ‘আইনি প্রক্রিয়া যেগুলো আছে, সেগুলো বিসিবির মাধ্যমে হলে জিনিসটা আরও তাড়াতাড়ি সমাধান হতে পারত। বিসিবিরও সিদ্ধান্তের বিষয় আছে যে তারা এটা করবে কিনা, করতে চায় কিনা বা তাদের করার এখতিয়ার আছে কিনা। অনেকগুলো বিষয়ই আছে। হয়ত এভাবে করাটা সম্ভব হয় না। আমারটা যেহেতু আমাকেই করতে হবে।’

বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের বিশ্বকাপ না খেলার বিষয়ে সাকিব বলেন, ‘বিশ্বকাপ না খেলাটা অবশ্যই হতাশাজনক। ওই সময় সরকার যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে আসলে তার উপর তো বিসিবি কথা বলতে পারে না। এটা সম্ভব ছিলো না। তৎকালীন সরকারের কিছু সিদ্ধান্তের কারণেই আসলে এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল, যার দায় ওই সময়ের সরকারের ওপরেই বর্তায়।’

ঢাকা প্রিমিয়ার লিগ বন্ধ থাকা নিয়ে সাকিব বলেন, ‘একটা জিনিস আমি বুঝি এখানে একমাত্র ভুক্তভোগী হলো খেলোয়াড়রা, অন্য কেউ সাফার করছে না। খেলোয়াড়দের কষ্টটা কারো বোঝার ইচ্ছা আছে বলে আমার মনে হয় না। সবাই আসলে যার যার ক্ষমতা দখলের লড়াইয়ে ব্যস্ত এবং খেলোয়াড়দের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে।’

২০২৭ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপের প্রেক্ষাপটে ডিপিএল না হওয়ার প্রভাব সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘১৫টি ম্যাচ খেলা একজন খেলোয়াড়ের অভিজ্ঞতার জন্য অনেক বড় বিষয়। ঢাকা লিগ আমাদের বিশ্বকাপ প্রস্তুতিতে প্রভাব ফেলবে কি ফেলবে না তারচেয়ে বড় হলো প্রতিটা খেলোয়াড়ের জীবনে প্রভাব পড়ছে। এটা সব থেকে বড়। খেলোয়াড়দের ব্যক্তিগত ও আর্থিক জীবনের ওপর এর প্রভাব।’

ক্রিকেট খেলা চালিয়ে যাওয়া নিয়ে সাকিব বলেন, ‘খেলার প্রতি আমার আগ্রহ এখনো আগের মতোই অটুট আছে, তাই চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। যেদিন দেখব আর আগ্রহ নেই, সেদিন নিজ থেকেই সরে দাঁড়াব।’

রাজনীতি নিয়ে তিনি বলেন, ‘রাজনীতি তো ধরেন আমৃত্যু করা যায়, রাজনীতিতে অনেক সময় আছে। যেটার সময় নেই সেটা হলো ক্রিকেট। এটা আগে ঠিক করার চেষ্টা করছি। আর রাজনীতি যেটা বলছেন, আমি মনে করি রাজনীতি একটি বড় প্ল্যাটফর্ম যেখান থেকে বড় ধরণের পরিবর্তন আনা সম্ভব। যদি আমি মানুষের জন্য কিছু করতে পারি, তবে সেটা আমার ভালো লাগবে এবং সেই আশা আমার এখনো আছে।’

বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে সাকিব বলেন, ‘একটা নতুন সরকার এসেছে, যেভাবেই আসুক। আসার সঙ্গে সঙ্গেই তাদের সামনে এখন বড় একটা চ্যালেঞ্জ। এই মুহুর্তে আমার মনে হয় তাদের অনেক বড় দায়িত্ব হচ্ছে সবাইকে নিয়ে একসঙ্গে কাজ করা। মুখে বলা আর কাজে করার পার্থক আছে। সবাইকে নিয়ে যদি কাজ করতে পারে তাহলে সমস্যা থেকে বাংলাদেশ মুক্ত হতে পারবে।’

জাতীয় ইস্যুতে এক হওয়ার সংস্কৃতি নিয়ে তিনি বলেন, ‘আমি তো আশাবাদী, কাউকে না কাউকে শুরু করতে হবে। এখন যারা শুরু করবে তারা অনেকদূর সামনের দিকে এগিয়ে যাবে। এখন কে শুরু করবে দেখার বিষয়।’

বর্তমান প্রধানমন্ত্রী পেশাদার খেলোয়াড়দের রাজনীতি থেকে দূরে থাকার আহ্বান সম্পর্কে সাকিব বলেন, ‘দেখুন আমার কাছে মনে হয় প্রতিটা বাংলাদেশের নাগরিকের এই ব্যাপারে নিজস্ব মতামত আছে। প্রধানমন্ত্রী উনার জায়গা থেকে যেটা ভাবছেন, সেটা উনার মতামত।’

আরও পড়ুন