চামড়া শিল্পের সংকট উত্তরণে ট্যানারি প্রতিষ্ঠানে ব্যবহৃত ৪৩ প্রকারের কেমিক্যাল আমদানিতে কর ও ভ্যাট প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন চামড়া শিল্প উদ্যোক্তারা। বাংলাদেশ ফিনিশড্ লেদার, লেদারগুডস অ্যান্ড ফুটওয়্যার এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন এবং বাংলাদেশ ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিটিএ) এই প্রস্তাব দিয়েছে।
বুধবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে এনবিআর ভবনে প্রাক-বাজেট আলোচনা সভায় এসব প্রস্তাব তুলে ধরা হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন এনবিআর চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান।
সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকে ব্যবসায়ীরা বলছেন, ভারত, ভিয়েতনাম ও ইন্দোনেশিয়ার মতো প্রতিযোগী দেশগুলোর তুলনায় উৎপাদন ব্যয় কমাতে না পারলে রপ্তানি লক্ষ্যমাত্রা অর্জন অসম্ভব হয়ে পড়বে। শতভাগ রপ্তানিমুখী ট্যানারি প্রতিষ্ঠানে কাঁচামাল উৎপাদনে ব্যবহৃত ৪৩ প্রকারের কেমিক্যাল এবং প্রয়োজনীয় মেশিনারিজ আমদানির ক্ষেত্রে উৎস কর ও মূসক সম্পূর্ণরূপে প্রত্যাহার করা জরুরি।
ব্যবসায়ীদের মতে, কাঁচা চামড়া একটি পচনশীল কৃষিজাত পণ্য। গত বছরের ২৬ মে প্রকাশিত এসআরও অনুযায়ী, কাঁচা চামড়া সরবরাহের ক্ষেত্রে ৩ শতাংশ হারে উৎস কর ধার্য করা হয়। এই কর বাতিল করে কাঁচা চামড়াকে পুনরায় করমুক্ত করার দাবি তুলেছেন তারা।
অন্যদিকে, ২০১৯ সালের এনবিআরের পরিপত্র অনুযায়ী শিল্প কারখানায় বিদ্যুৎ, পানি ও জ্বালানি ব্যবহারে কোনো প্রকার মূসক ব্যতিরেকে বিল পরিশোধের সুবিধা নিশ্চিত করার তাগিদ দিয়েছেন মালিকরা। এক্ষেত্রে কোনো ধরনের প্রশাসনিক হয়রানি বা দুর্নীতি বন্ধের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ ফিনিশড্ লেদার, লেদারগুডস অ্যান্ড ফুটওয়্যার এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন।
তারা বলছেন, আধুনিক চামড়া শিল্প নগরী প্রতিষ্ঠা করে পণ্য বহুমুখীকরণে সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। বর্তমান পরিবর্তিত বিশ্ব পরিস্থিতিতে টেকসই উন্নয়নের জন্য এই নীতিগত সহায়তাগুলো দ্রুত বাস্তবায়ন করা প্রয়োজন।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, চামড়া শিল্পে ব্যবহৃত প্রধান কাঁচামাল কাঁচা চামড়া পচনশীল হওয়ায় দ্রুত সংরক্ষণ প্রয়োজন হয়। এক্ষেত্রে কেমিক্যাল একটি অপরিহার্য উপাদান। তবে অধিকাংশ কেমিক্যাল, ক্যাপিটাল মেশিনারিজ ও এক্সেসরিজ আমদানিনির্ভর। বর্তমানে এসব কেমিক্যাল আমদানিতে কাস্টমস ডিউটি, রেগুলেটরি ডিউটি, সাপ্লিমেন্টারি ডিউটি, অ্যাডভান্স ইনকাম ট্যাক্স, অ্যাডভান্স ট্রেড ভ্যাট ও সোর্স ট্যাক্সসহ মোট ট্যাক্স ইনসিডেন্ট ৩০ শতাংশের বেশি।
বিদ্যমান নীতিমালা অনুযায়ী, কেমিক্যাল আমদানিতে মূল্যভিত্তিক ৫ শতাংশের অতিরিক্ত শুল্ক শর্তসাপেক্ষে অব্যাহতি পাওয়া যায়। তবে এ খাতে ভ্যাট হার এখনও ১৫ শতাংশ রয়েছে। এ অবস্থায় নতুন এসআরও জারি করে মূল্যভিত্তিক ৩ শতাংশের বেশি শুল্ক অংশ অব্যাহতি এবং কেমিক্যাল আমদানিতে ভ্যাট ১৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৭.৫ শতাংশ নির্ধারণের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
উদ্যোক্তাদের মতে, এ ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করা হলে নন-বন্ড ট্যানারি শিল্প প্রতিযোগিতামূলক হবে, অনিয়মিত বা ঘুরপথে কেমিক্যাল আমদানির প্রবণতা কমবে, উৎপাদন ও রপ্তানি বাড়বে এবং দীর্ঘমেয়াদে সরকারের রাজস্বও বৃদ্ধি পাবে।
