রাঙ্গামাটির কাপ্তাই লেকে জ্বালানি তেলের তীব্র সংকটে পর্যটন বোটচালকরা চরম বিপাকে পড়েছেন। স্থানীয় ফিলিং স্টেশনগুলো থেকে পর্যাপ্ত জ্বালানি না পাওয়ায় শতাধিক বোটচালক ও পর্যটন খাতের সংশ্লিষ্টরা বিড়ম্বনার শিকার হচ্ছেন।
ঝুলন্ত সেতু এলাকার পর্যটন বোট ঘাটে সারি সারি বোট নোঙর করা থাকলেও পর্যটকদের আনাগোনা অনেক কম। বোটচালকরা কাউন্টারে বসে অলস সময় পার করতে দেখা গেছে। পর্যটন বোটঘাট কাউন্টারের তথ্য মতে, তালিকাভুক্ত প্রায় শতাধিক ট্যুরিস্ট বোটের মধ্যে বর্তমানে সচল আছে প্রায় ৫০টি।
এগুলোর জন্য প্রতিদিন ১০০ থেকে ১৫০ লিটার তেলের প্রয়োজন হলেও স্টেশন থেকে সরবরাহ করা হচ্ছে ১০-১৫ লিটার করে। বোটচালক মো. সোহেল বলেন, ‘ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়েও পর্যাপ্ত তেল পাওয়া যাচ্ছে না। অল্প তেল দিয়ে বোট চালিয়ে যা আয় হয়, তা দিয়ে আমাদের পোষানো সম্ভব হচ্ছে না।’
আরেক বোটচালক জসিম উদ্দিন বলেন, ‘পর্যাপ্ত তেল না থাকায় আমরা পর্যটকদের দূরের জায়গাগুলোতে নিয়ে যেতে পারছি না। আমরা চাই তেলের পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিত করা হোক। না হলে রাঙ্গামাটির সম্ভাবনাময় এই খাত বড় ধরনের লোকসানের মুখে পড়বে।’
পর্যটন বোট ঘাট কাউন্টারের লাইনম্যান মো. ফখরুল ইসলাম বলেন, ‘জ্বালানি সংকটে ট্যুরিস্ট বোট চলাতে আমাদের হিমশিম অবস্থা। শুক্রবারে ৮-১০ টির মতো বোট ভাড়া হলেও অন্যান্য দিনে বোট ভাড়া হয় ৩ থেকে ৫টি।’
রাঙ্গামাটি ট্যুরিস্ট বোট মালিক কল্যাণ সমিতি সহ সভাপতি মো. রমজান আলী বলেন, ‘প্রায় ১০০টির বেশি বোট রয়েছে। ঈদের পর থেকে তেলের জন্য আমাদের বোটচালকরা অনেক কষ্ট করছেন। সম্প্রতি জেলা প্রশাসন থেকে এক দিন পর পর তেলের ব্যবস্থা করে দেওয়া হলেও তা পর্যাপ্ত নয়।’
রাঙ্গামাটির জেলা প্রশাসক নাজমা আশরাফী বলেন, ‘যাত্রীবাহী লঞ্চ ও ট্যুরিস্ট বোটগুলো সচল রাখতে তেল বরাদ্দের জন্য ফিলিং স্টেশনগুলোকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। আমরা চেষ্টা করছি এক দিন পর পর পর্যটনের বোট ও লঞ্চগুলোকে প্রয়োজনীয় তেল সরবরাহ করতে।’
