প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নেওয়ার ফরম বিতরণের বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের শপথ ভঙ্গ ও সংবিধান লঙ্ঘনের অভিযোগের বিপরীতে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। তিনি জানিয়েছেন, বিষয়টি বর্তমানে আদালতে বিচারাধীন এবং জাতীয় সংসদের আলোচনা নিয়ে মন্তব্য করা তার সাজে না।
বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন কমিশন ভবনে বগুড়া-৬ ও শেরপুর-৩ আসনের উপ-নির্বাচন কেন্দ্রীয়ভাবে পর্যবেক্ষণ শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে সিইসি এসব কথা বলেন। জাতীয় সংসদে সরকারি ও বিরোধী দলের সদস্যদের সমালোচনার বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি বলেন, এগুলো নিয়ে মামলা হয়েছে এবং বিষয়টি এখন বিচারাধীন।
গত ৩১ মার্চ জাতীয় সংসদের অধিবেশনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ দাবি করেন, সিইসি সংবিধানের বাইরে গিয়ে সংস্কার পরিষদের শপথের ফরম বিতরণ করেছেন। তিনি জানান, সিইসি ১৪৮ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সংবিধান সংরক্ষণের শপথ নিয়েছেন, কিন্তু কোন আইন বলে এই ফরম সংসদ সচিবালয়ে পাঠালেন তা তার এখতিয়ারের বাইরে ছিল।
সিইসি সরাসরি মুখ না খুললেও নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন নির্বাচন কমিশনার জানান, শপথের ফরম নির্বাচন কমিশন থেকে সরবরাহ করা হয়নি। ওই ফরম সংসদ সচিবালয় থেকে দেওয়া হয়েছিল এবং সিইসি ব্যক্তিগতভাবে জানিয়েছেন যে ইসি থেকে এমন কোনো ফরম পাঠানো হয়নি।
গত ১৭ মার্চ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের নির্বাচিত সদস্যরা শপথ গ্রহণ করেন। ওই দিনই ‘জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ-২০২৫’ অনুযায়ী গঠিত সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নেওয়ার কথা ছিল সংসদ সদস্যদের। তবে বিএনপির নির্বাচিত প্রতিনিধিসহ দুই-তৃতীয়াংশ এমপি এই পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নিতে অস্বীকৃতি জানান।
বিএনপির এই অবস্থানকে কেন্দ্র করে জামায়াতে ইসলামী এবং জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ও তাদের মিত্রদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়। অর্ধেকের বেশি সংসদ সদস্য সংস্কার পরিষদে যোগ না দেওয়ায় পরিষদটির কার্যক্রম নিয়ে বর্তমানে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।
