ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈলে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তাকে (পিআইও) মারধরের অভিযোগে গণঅধিকার পরিষদের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি মামুনুর রশিদ মামুনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। শুক্রবার (১০ এপ্রিল) রাতে দিনাজপুরের সুইহারি ড্রাইভার পাড়া এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
মামলার বিবরণ অনুযায়ী, মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) রাণীশংকৈল উপজেলা পরিষদে অফিসের কাজ করার সময় পিআইও নুরনবী সরকার ও তার দপ্তরের এক কর্মচারীর ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় পিআইও বাদী হয়ে মামুনসহ ৫ জন এবং অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন। মামলার পর রাতেই পুলিশ জিয়াউর রহমান নামে এক আসামিকে গ্রেফতার করে।
পিআইও নুরনবী সরকার অভিযোগ করেন, মামুন ও তার সহযোগীরা পূর্বপরিকল্পিতভাবে অফিসে ঢুকে হামলা চালান এবং অফিস তছনছ করেন। তিনি আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করেছেন। একই সময়ে ঘটনার একটি ভিডিওতে দেখা যায়, পিআইওর কক্ষ থেকে বের হওয়ার সময় উপজেলা ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা মামুনকে হামলার শিকার করেন।
রাণীশংকৈল উপজেলা অফিসার্স ক্লাব এবং বাংলাদেশ উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিসার সমিতি সরকারি কর্মকর্তার ওপর হামলার ঘটনায় প্রতিবাদ জানিয়েছে। তবে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পিআইও নুরনবী সরকারের বিরুদ্ধে আগে থেকেই উচ্ছৃঙ্খল আচরণের অভিযোগ রয়েছে। সম্প্রতি তার বিরুদ্ধে এক ইউপি সদস্যকে ‘পুঁতে ফেলার’ হুমকির অডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
গণঅধিকার পরিষদের নেতা মামুনুর রশিদ মামুন জানিয়েছেন, তিনি পিআইওর বিরুদ্ধে ইউএনও খতিজা বেগমকে অভিযোগ করেছিলেন। ইউএনও জানান, জেলা প্রশাসককে অবগত করা হয়েছে। তবে অভিযোগ রয়েছে, ওই কর্মকর্তা আচরণ পরিবর্তন করেননি।
রাণীশংকৈল থানার তদন্তকারী কর্মকর্তা রহমতুল্লাহ রনি মামুনের গ্রেফতারের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন এবং জানান, দিনাজপুর কোতোয়ালী থানার পুলিশের সহযোগিতায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
