জুলাই বিপ্লব ও গণভোটের রায় রক্ষাসহ তিন দফা দাবিতে আমরণ অনশনে বসা শিক্ষার্থীদের অনশন ৭০ ঘণ্টা অতিক্রম করেছে, তবে সরকার বা বিরোধী দলের পক্ষ থেকে কোনো সুনির্দিষ্ট আশ্বাস মেলেনি। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত তারা অনশন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।
শনিবার (১১ এপ্রিল) দুপুরে ঢাকার বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে ক্লান্ত শরীরে শুয়ে আছেন অনশনরত তিন শিক্ষার্থী। তাদের পাশে অবস্থানকারীরা হাতপাখা দিয়ে বাতাস করছেন। অনশনকারীদের মধ্যে দুজনের হাতে ক্যানোলা লাগানো রয়েছে এবং একজনের রক্তচাপ বেশি থাকায় তাকে স্যালাইন দেওয়া সম্ভব হয়নি।
অনশনে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীরা হলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের মো. সাদিক মুনওয়ার মুনেম, সমাজবিজ্ঞান বিভাগের সাকিবুর রহমান এবং নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শেখ মোস্তাফিজ। দীর্ঘ সময় অনশন চললেও দাবি পূরণের বিষয়ে কোনো আশ্বাস না পাওয়ায় তারা হতাশা প্রকাশ করেছেন।
অনশনকারী মো. সাদিক মুনওয়ার মুনেম বলেন, “মনে হচ্ছে যেন ডাস্টবিনে পড়ে আছি। ব্যথায় মাথা ফেটে যাচ্ছে। গত দুদিনে প্রেসার অনেক বেশি ছিল। স্যালাইনও দেওয়া যায়নি। আশ্বাস তো এমনিতেই দেওয়া যায়, কিন্তু দাবি বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত আমরা এখান থেকে উঠব না।”
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ বুদ্ধিজীবী ড. মুহাম্মদ মোর্তজা মেডিকেল সেন্টারের প্রধান মেডিকেল অফিসার ডা. মো. তানভির আলী জানান, অনশনকারীদের রক্তচাপ আপাতত স্বাভাবিক আছে, তবে স্বাভাবিকের নিম্নসীমার দিকে।
এদিকে, গত কয়েক দিনে অনশনকারীদের সঙ্গে সংহতি জানাতে রাজু ভাস্কর্যে আসেন ঢাকা-১৪ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার আরমান হোসেন, ঢাকা-৪ আসনের সৈয়দ জয়নুল আবেদীন, ঢাকা-৫ আসনের কামাল হোসেন এবং শেরপুর-১ আসনের রাশেদুল ইসলাম রাজু। এছাড়া জুলাইয়ের শহীদ পরিবারের সদস্য এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরাও সেখানে উপস্থিত ছিলেন।
বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক, জাতীয় নাগরিক পার্টির নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, ডাকসুর ভিপি আবু সাদিক কায়েম, জিএস এস এম ফরহাদসহ আরও কয়েকজন সংসদ সদস্য ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব অনশনকারীদের দাবির প্রতি একাত্মতা প্রকাশ করেছেন।
