কুমিল্লার লাকসামে ভুল চিকিৎসায় এক শিশুর মৃত্যুর ঘটনায় ‘ইউনিটি ট্রমা অ্যান্ড জেনারেল হসপিটাল’ নামের হাসপাতালের কার্যক্রম বন্ধ করা হয়েছে। শনিবার (১১ এপ্রিল) সকালে হাসপাতালটির কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ। লাকসাম উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা নাজিয়া বিনতে আলম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
এছাড়াও ওই শিশুর মৃত্যুর ঘটনায় তিন সদস্যবিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিতে আহ্বায়ক করা হয়েছে উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা নাজিয়া বিনতে আলমকে। অন্য সদস্যরা হলেন কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অর্থোপেডিক কনসালটেন্ট সুমন কুমার দত্ত এবং কুমিল্লা জেনারেল হসপিটালের এনেস্থিসিয়া কনসালটেন্ট আব্দুল্লাহ আল কাফি।
গত বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) সন্ধ্যায় কুমিল্লার লাকসাম বাইপাস এলাকার ইউনিটি অ্যান্ড ট্রমা হসপিটালে ভুল চিকিৎসায় শিশুর মৃত্যু ঘটে। ওই সময় উত্তেজনা সৃষ্টি হলে হাসপাতালটির চিকিৎসক ও নার্সরা পালিয়ে যায়। নিহত শিশুটির নাম আব্দুল্লাহ আল হোসাইন, সে লাকসাম উপজেলার কেমতলী গ্রামের হারুনুর রশিদের একমাত্র সন্তান।
শিশুটির পরিবার জানায়, খেলতে গিয়ে শিশুটি হাতে ব্যথা পেলে তাকে লাকসাম ইউনিটি ট্রমা হসপিটালে নেওয়া হয়। সেখানে দায়িত্বরত চিকিৎসক ডা. শাহেদ আনোয়ার ভূইয়া অপারেশন করার পরামর্শ দেন এবং ৩৫ হাজার টাকা খরচ নির্ধারণ করেন। বৃহস্পতিবার দুপুর ২টার দিকে শিশুটিকে অপারেশন থিয়েটারে নেওয়া হয়।
শিশুটির বাবা অভিযোগ করেন, দীর্ঘ ৩ ঘণ্টা পর ওইদিন বিকেল ৫টার দিকে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাদেরকে দ্রুত অ্যাম্বুলেন্স এনে রোগীকে কুমিল্লায় আইসিইউতে নেওয়ার জন্য বলেন এবং শিশুটির অবস্থা সংকটাপন্ন বলে জানান। পরে তাকে কুমিল্লা নগরীর মডার্ন হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানকার কর্তব্যরত চিকিৎসকরা জানান, শিশুটির মৃত্যু আগেই হয়েছে।
ঘটনার পর স্বজনরা কুমিল্লা থেকে শিশুটির মরদেহ নিয়ে এসে হাসপাতালের সামনে বিচারের দাবিতে অবস্থান নেন। এসময় বিক্ষুব্ধ জনতা কুমিল্লা-নোয়াখালী সড়কে টায়ারে আগুন জ্বালিয়ে অবরোধ করেন। পরে শিশুটির স্বজনদের সাথে কথা বলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে লাকসাম থানা পুলিশ।
লাকসাম উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা নাজিয়া বিনতে আলম বলেন, তদন্ত কার্যক্রম শেষ না হওয়া পর্যন্ত হাসপাতালটির কার্যক্রম সাময়িক বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। তদন্তের পর বিস্তারিত জানানো হবে।
