২০৩০ সালের পর বাংলাদেশে ভ্যাকসিন সরবরাহ কীভাবে নিশ্চিত হবে, এ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বিএমইউ সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতালের পরিচালক অধ্যাপক ডা. সাইফ উল্লাহ মুন্সী। তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক সহায়তা নির্ভরতা কমিয়ে এখনই দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা না নিলে বাংলাদেশ বড় ধরনের সংকটে পড়তে পারে।
রোববার (১২ এপ্রিল) বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএমইউ) মিল্টন হলে আয়োজিত ‘হামের পুনঃআবির্ভাব : প্রতিরোধ ও ব্যবস্থাপনার প্রতিবন্ধকতা’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে তিনি এসব কথা জানান।
অধ্যাপক সাইফ উল্লাহ মুন্সী বলেন, হাম আমাদের ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, ভ্যাকসিন ব্যবস্থার কোথাও বড় ধরনের গ্যাপ রয়েছে। ২০৩০ সাল পর্যন্ত গ্যাভি আমাদের ভ্যাকসিন সরবরাহ করবে, কিন্তু ২০২৬ সালের মধ্যে আমরা আলোচনা করিনি এরপর আমরা কোথা থেকে ভ্যাকসিন পাব। আমাদের প্রস্তুতি কোথায়? হামের পুনঃআবির্ভাব দেশের টিকাদান ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা সামনে এনেছে। তাই এখনই স্বনির্ভরতা ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার দিকে নজর দেওয়া জরুরি।
তিনি টিকাদান কাভারেজ নিয়ে প্রশ্ন তুলে বলেন, কিছু জেলায় ১৫০ শতাংশ কাভারেজ দেখানো হচ্ছে, যা বাস্তবসম্মত নয়। এর অর্থ হলো আমাদের তথ্য বা ব্যবস্থাপনায় বড় ধরনের ত্রুটি রয়েছে। এই সমস্যা শুধু বাংলাদেশেই নয়, পার্শ্ববর্তী দেশগুলোতেও দেখা যাচ্ছে।
ইপিআই কার্যক্রমকে আধুনিকায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, টিকাদান কর্মসূচি ডিজিটালাইজ করতে হবে এবং কোথায় ভুল হচ্ছে তা সঠিকভাবে চিহ্নিত করতে হবে। বর্তমান কাভারেজের মধ্যে বড় ধরনের ঘাপলা রয়েছে।
এছাড়া জবাবদিহি নিশ্চিত করার পাশাপাশি স্বাস্থ্য অবকাঠামো জোরদারের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ল্যাবরেটরিগুলো শক্তিশালী করতে হবে। পাশাপাশি এন্টি-ভ্যাকসিন প্রচারণা নজরে রাখতে হবে এবং কেউ ইচ্ছাকৃতভাবে টিকা না দিলে তাকে আইনের আওতায় আনতে হবে।
