কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের অভিযোগ তুলে পীর আবদুর রহমান শামীমকে হত্যা করার ঘটনায় তার পরিবার মামলা করবে না। পরিবার সদস্যরা নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
আজ সোমবার সকালে নিহত শামীমের বড় ভাই ফজলুর রহমান দ্য ডেইলি স্টারকে জানান, ‘গতকাল রোববার বিকেলে দাফনের পর রাতে পরিবারের সদস্যরা বসেছিলেন। সেখানে পুলিশ কর্মকর্তাও ছিলেন। তারা মামলার জন্য বারবার বলেছেন। কিন্তু আমরা সবাই মিলে মামলা না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আমার বয়স হয়েছে, এসব নিয়ে দৌড়ঝাঁপ করার সামর্থ্য আর নেই।’
দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফুর রহমান জানান, ‘তারা মামলা করবেন না—এমন কিছু শুনিনি। মামলার জন্য আজ তাদের থানায় আসার কথা।’
গত শনিবার দুপুরে দৌলতপুর উপজেলার ফিলিপনগরে দরবার শরিফে পীর আবদুর রহমান শামীমকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে হত্যা করা হয়। এ সময় দরবার শরিফে ব্যাপক ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ ঘটে।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সূত্রে জানা যায়, শামীম হত্যার মূল পরিকল্পনাকারীদের শনাক্ত করা হয়েছে। কিছু ফেসবুক পেজ ও অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে হামলাটি উসকে দেওয়া হয়েছিল। পুলিশের তদন্ত অনুযায়ী, প্রথম হামলায় প্রায় ৭০-৮০ জন অংশ নেয়, যাদের মধ্যে কয়েকজন বয়স্ক ব্যক্তিও ছিলেন। ভাঙচুরে সরাসরি ৭-৮ জন অংশ নেয়। পরে দ্বিতীয় দফায় স্থানীয় একটি মাদ্রাসার কয়েকশ শিক্ষার্থী হামলায় যোগ দেয়।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে পুলিশের একজন উপপরিদর্শক (এসআই) জানান, যেসব আইডি থেকে ভিডিও ছড়ানো হয়েছে, সেগুলোর কয়েকটির অ্যাডমিনের পরিচয় শনাক্ত করা হয়েছে এবং হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় জড়িত ১৫ থেকে ১৮ জনকে ভিডিও দেখে শনাক্ত করা হয়েছে। তবে পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা না হলে আইনি প্রক্রিয়া কীভাবে এগোবে সে বিষয়ে পুলিশ এখনো কিছু জানায়নি।
