বাংলাদেশে চা চাষের সূচনা প্রায় ১৭০ বছর আগে হলেও চা-শ্রমিকদের জীবনমানের উন্নতি হয়নি। বিশেষজ্ঞদের মতে, ব্রিটিশ আমল থেকে শুরু হওয়া নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার ফলে শ্রমিকরা বেকারত্ব, কুসংস্কার এবং মদের আসরে আটকে রয়েছেন। দেশে ১৬৭টি চা বাগানে প্রায় ৯ লাখ মানুষ বসবাস করেন, যাদের মধ্যে দেড় লাখ শ্রমিক নিয়মিত কাজ করছেন।
চা শ্রমিকদের সন্তানেরা উচ্চ শিক্ষা অর্জন করলেও বাগানের বড় একটি অংশ এখনও কুশিক্ষা ও মদ্যপান থেকে মুক্ত হতে পারেনি। মৌলভীবাজারে বিভিন্ন চা বাগানে দেখা যায়, বৈধ মদের পাট্টার পাশাপাশি অবৈধভাবে মদ বিক্রি হচ্ছে। সন্ধ্যার পর মদের বেচাকেনা শুরু হয় এবং অনেক শ্রমিক নেশার কারণে পরিবারকে নির্যাতন করেন।
মৌলভীবাজারের মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, জেলায় ৪৫টি বৈধ মদের পাট্টা রয়েছে। তবে অবৈধ চোলাইমদ বিক্রির বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান চলছে। চা শ্রমিকদের দাবি, যতদিন পর্যন্ত মদের পাট্টা বন্ধ না হবে, ততদিন পর্যন্ত তাদের ভাগ্য পরিবর্তন হবে না।
বাগান পঞ্চায়েত কমিটির সদস্যরা জানান, শ্রমিক নিয়োগের নির্দিষ্ট বিধান থাকা সত্ত্বেও তা মানা হয় না এবং প্রচুর পরিমাণ জমি অনাবাদী পড়ে রয়েছে। চা-শ্রমিক নেতারা বলেন, বেকারত্ব দূরীকরণে সরকার ও চা-বাগান মালিকদের কার্যকরী উদ্যোগ নিতে হবে।
বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের সাবেক সাধারণ সম্পাদক রামভজন কৈরি জানান, মদ্যপান ছেড়ে শিক্ষার প্রতি মনোযোগ দিলে শ্রমিকদের জীবনমান উন্নত হবে। সরকার যদি মদের পাট্টা বন্ধের উদ্যোগ নেয়, তবে বেকারত্ব হ্রাস পাবে। মৌলভীবাজারের উপপরিচালক মো. রাশেদুজ্জামান জানান, অবৈধ মদ বিক্রির বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
