মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশ সংসদে পাস না হওয়ার প্রেক্ষিতে সদ্য বিদায়ী পাঁচজন মানবাধিকার কমিশনার একটি খোলা চিঠি লিখেছেন। চিঠিটি সোমবার (১৩ এপ্রিল) জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরী ও অন্যান্য সদস্যদের পক্ষ থেকে প্রকাশিত হয়।
চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, অধ্যাদেশগুলো বাতিলের পক্ষে সংসদে কিছু ভুল তথ্য উপস্থাপন করা হয়েছে। তারা জানান, গুম অধ্যাদেশে অপরাধের মাত্রাভেদে সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদণ্ড, যাবজ্জীবনসহ যেকোনো মেয়াদের কারাদণ্ড এবং জরিমানা হতে পারে। সংসদে বলা হয়েছে, গুমের সাজা মাত্র ১০ বছর, যা সঠিক নয়।
তারা আরও বলেন, মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশে তদন্তের সময়সীমা স্পষ্টভাবে নির্ধারণ করা হয়েছে এবং জরিমানা নির্ধারণ ও আদায়ের পদ্ধতিও বর্ণিত আছে। চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, আইসিটি আইন কেবল মানবতাবিরোধী অপরাধ বিচার করতে পারে, সাধারণ ফৌজদারি অপরাধ নয়।
চিঠির তৃতীয় অংশে তারা সরকারের প্রকৃত আপত্তির বিষয়টি তুলে ধরেন। কমিশনকে মন্ত্রণালয়ের অধীনে রাখার দাবি এবং নিরাপত্তা বাহিনীর তদন্তে সরকারের পূর্বানুমতির প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করে তারা বলেন, এসব পদক্ষেপ কমিশনের স্বাধীনতার পরিপন্থী।
ভবিষ্যৎ আইনের গুণগত মান বিচারের প্রস্তাবনা সম্পর্কেও তারা আলোচনা করেন। তারা জানান, সরকার যদি নতুন আইন প্রস্তাব করে, তবে ভুক্তভোগীরা সরকারের নথিভুক্ত আপত্তিগুলো মেনে নিয়ে আইনকে দুর্বল করা হচ্ছে কিনা তা লক্ষ্য রাখবে।
