মালয়েশিয়ায় যাচ্ছে জামালপুরের কাঁচা মরিচ

মালয়েশিয়ায় যাচ্ছে জামালপুরের কাঁচা মরিচ

জামালপুরে উৎপাদিত কাঁচা মরিচ আন্তর্জাতিক বাজারে স্থান করে নিচ্ছে। ইতোমধ্যে এসব মরিচ মালয়েশিয়ায় রপ্তানি শুরু হয়েছে, যা স্থানীয় কৃষকদের জন্য নতুন আশার সঞ্চার করেছে।

জেলার বিস্তীর্ণ চরাঞ্চলে কাঁচা মরিচের চাষ হয়। চলতি মৌসুমে প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে আবাদ ও উৎপাদন কিছুটা কমেছে, তবে বাজারে দাম বেশি থাকায় কৃষকরা লাভবান হচ্ছেন।

জামালপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এ মৌসুমে ৭ হাজার ৩৫০ হেক্টর জমিতে মরিচ চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হলেও বাস্তবে ৬ হাজার ৪৭৫ হেক্টর জমিতে চাষ হয়েছে।

মাদারগঞ্জ উপজেলার গাবেরগ্রাম বাজারের ব্যবসায়ী মালেক মিয়া জানান, তারা প্রতিদিন কৃষকদের কাছ থেকে মরিচ কিনছেন এবং স্থানীয় বাজারদরের চেয়ে ৪ থেকে ৫ টাকা বেশি দাম দিচ্ছেন। এসব মরিচ চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে মালয়েশিয়ায় পাঠানো হচ্ছে, যেখানে প্রতিটি কার্টুনে ৯ কেজি মরিচ থাকে।

এ পর্যন্ত প্রায় ৭০০ টন মরিচ রপ্তানি হয়েছে। স্থানীয় বাজারে যেখানে কেজিপ্রতি দাম ২৮ টাকা, সেখানে রপ্তানিযোগ্য মরিচের জন্য ৩৪ টাকা পর্যন্ত দেওয়া হচ্ছে। কৃষকরা সম্মিলিতভাবে প্রায় ২ কোটি ৩৮ লাখ টাকা আয় করেছেন।

মালয়েশিয়ায় কাঁচা মরিচের চাহিদা থাকায় সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, গুণগত মান বজায় রাখতে পারলে এ খাতে বিপুল সম্ভাবনা আছে। কৃষক আবদুল রহিম বলেন, অতিরিক্ত বৃষ্টির কারণে ফলন কম হয়েছে, তবে দাম বেড়েছে।

আরেক কৃষক হাবিবুর রহমান জানান, সারের দাম বেড়েছে এবং ফলন ভালো না হলে খরচ উঠানো কঠিন, তবে রপ্তানির কারণে দাম কিছুটা ভালো হয়েছে।

জামালপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোহাম্মদ আলম শরিফ খান বলেন, জেলার বিভিন্ন এলাকার কাঁচা মরিচ বিভিন্ন কোম্পানি ও ব্যক্তিগত রপ্তানিকারকের মাধ্যমে বিদেশে পাঠানো হচ্ছে এবং রপ্তানিযোগ্য মান নিশ্চিত করাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।

আরও পড়ুন