মূল্যস্ফীতির সঙ্গে পাল্লা দিতে পারছে না বাংলাদেশের মজুরি, ফলে প্রকৃত আয় কমছে। করোনা মহামারির পর নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় নিম্ন আয়ের মানুষের জীবনযাত্রা ক্রমশ কঠিন হয়ে পড়ছে।
পটুয়াখালীর মহিপুরের জেলে রফিক মাঝি জানান, প্রতিদিন ৫০০ টাকার মতো আয় হলেও খাদ্য তালিকা ছোট করতে বাধ্য হয়েছেন। সাগরে মাছ ধরা নিষেধাজ্ঞার কারণে বর্তমানে ধারদেনা করেই সংসার চালাতে হচ্ছে।
রফিক বলেন, ‘সবকিছুর দাম বেড়েছে, কিন্তু আমাদের আয় তো বাড়েনি।’ একই জেলার আড়তের কর্মচারী কবির হোসেনের অবস্থাও রফিকের মতো। তিনি জানান, দৈনন্দিন চাহিদা পূরণ করা অসম্ভব হয়ে পড়েছে।
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে মজুরি কিছুটা বেড়ালেও তা মূল্যস্ফীতির তুলনায় কম। মার্চে মজুরি বৃদ্ধির হার ছিল ৮ দশমিক ০৯ শতাংশ, অন্যদিকে মূল্যস্ফীতি ছিল ৮ দশমিক ৭১ শতাংশ।
রাজপুর ইউনিয়নের কৃষিশ্রমিক প্রশান্ত কুমার রায় জানান, কৃষি উপকরণের দাম বেড়ে যাওয়ায় তার মাসিক আয় ১৫-২০ হাজার থেকে কমে ১৪ হাজারে নেমেছে। খাবারের জন্য ধার করতে হচ্ছে।
অর্থনীতির অধ্যাপক মোহাম্মদ লুৎফর রহমান জানান, নিম্ন আয়ের পরিবারগুলো পুষ্টিকর খাবার বাদ দিয়ে ন্যূনতম ক্যালরি গ্রহণ করছে, যা ভবিষ্যতে বিপদ ডেকে আনবে।
সরকারি ব্যয়ের ধীরগতির কারণে শ্রমিকদের আয়ের সুযোগও কমে যাচ্ছে। জ্বালানি ও বিদ্যুৎ বিল বৃদ্ধির ফলে সাধারণ মানুষের প্রকৃত আয়ের ওপর চাপ বাড়ছে।
বিশ্বব্যাংকের সাম্প্রতিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস কমেছে এবং ১২ লাখ মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে চলে যেতে পারে।
