জাতীয় সংসদে আবার ফ্যাসিবাদের কালো ছায়া দেখা যাচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, ‘আগে সংসদে দাঁড়িয়ে আজ যারা সরকারি দলের গ্যালারিতে বসেছেন, তাদের উদ্দেশে যেভাবে তুচ্ছতাচ্ছিল্য করে কথা বলা হতো, এখন দুয়েকজন আমাদের লক্ষ্য করে সেরকম কথা বলা শুরু করেছেন। আমরা তাদের বলি, জিহ্বা সংযত করুন।’
আজ সোমবার ‘গণভোটের রায়ের বিরুদ্ধে সরকার: সংকটের মুখোমুখি দেশ’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি। এই সেমিনারটি রাজধানীর কাকরাইলে ইনস্টিটিউট অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স (আইডিইবি) মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয়।
শফিকুর রহমান বলেন, ‘এই মনোভাব ও এই আচরণ দেখাবেন না। জুলাই যুদ্ধের মধ্য দিয়ে যে প্রজন্ম, যে দেশ গড়ে উঠেছে, এই দেশ কারও চোখ রাঙানির পরোয়া করে না।’ তিনি অতীতে এই ধরনের আচরণ করা ব্যক্তিদের পরিণতির দিকেও اشاره করেন।
গণভোটের রায় কার্যকরের দাবিতে ১১ দলীয় ঐক্যের চলমান আন্দোলন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘এই আন্দোলন কোনো সুবিধাবাদী আন্দোলন নয়, ক্ষমতার হালুয়া রুটির ভাগ-বাটোয়ারা নয়। এই আন্দোলন ৭০ ভাগ মানুষের রায়ের প্রতি সম্মান দেখে।’
এছাড়াও, ইসলামী ব্যাংকের এমডিকে বাধ্যতামূলক ছুটিতে পাঠানোর প্রসঙ্গে তিনি মন্তব্য করেন, ‘বাংলাদেশ ব্যাংকে অভ্যুত্থান করার পরে দেশের সবচেয়ে বড় ব্যাংকে নতুন করে অভ্যুত্থান শুরু হয়েছে। এই অপসংস্কৃতি চলতে থাকলে জামায়াতে ইসলামী বসে বসে আঙুল চুষবে না।’
জামায়াত আমির বলেন, ‘যে ব্যাংক দেশের রেমিট্যান্সের ৩২ শতাংশ একা আহরণ করে, এই ব্যাংকের যদি অস্তিত্ব বিপন্ন হয়, তাহলে বাংলাদেশের অর্থনীতি বঙ্গোপসাগরে চলে যাবে।’
সেমিনারে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘গত ১৬ বছর যে রাষ্ট্র সংস্কারের কথা আমরা বলেছি, এখন আমাদের ঠিক সেই বিষয় নিয়ে কথা বলতে হচ্ছে।’
রাষ্ট্রবিজ্ঞানী দিলারা চৌধুরী স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর আইনের ব্যাখ্যা ও বক্তব্যের সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, ‘স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কখনো সাংবিধানিক সার্বভৌমত্বের কথা বলছেন, আবার কখনো বলছেন সংবিধানে গণভোটের কথা নেই। তিনি ইচ্ছা করেই সংবিধানের স্পিরিট তথা মূল চেতনার কথা বলছেন না।’
