বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ উদযাপন উপলক্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদে বৈশাখি শোভাযাত্রার শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি চলছে। সোমবার (১৩ এপ্রিল) সন্ধ্যা থেকেই চারুকলা প্রাঙ্গণে দর্শনার্থীদের ব্যাপক ভিড় দেখা যায়।
সরেজমিনে দেখা যায়, শোভাযাত্রার জন্য তৈরি প্রধান পাঁচটি মোটিফে রঙের কাজ চলছিল। আয়োজকরা জানান, রাতের মধ্যেই সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হবে। চারুকলার বকুলতলায় বিকেল ৪টায় শুরু হওয়া সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান দর্শনার্থীদের আকর্ষণের কেন্দ্র হয়ে ওঠে, যেখানে লোকসংগীত, নৃত্য ও শিল্পচর্চার নানা পরিবেশনা হয়।
মোহাম্মদ সামিউল আলিম বলেন, প্রতি বছর শোভাযাত্রা দেখলেও এবার শিল্পীদের কাজ কাছ থেকে দেখার অভিজ্ঞতা ভিন্ন ও আনন্দদায়ক। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন চার দিনব্যাপী বর্ণিল আয়োজন করেছে, যা ১৩ এপ্রিল বিকেল থেকে ১৬ এপ্রিল পর্যন্ত চলবে।
এবারের প্রতিপাদ্য ‘নববর্ষের ঐকতান, গণতন্ত্রের পুনরুত্থান’। বৈশাখি শোভাযাত্রা ১৪ এপ্রিল সকাল ৯টায় চারুকলা অনুষদের সামনে থেকে শুরু হবে। অংশগ্রহণকারীদের প্রস্তুতি সকাল ৮টায় শুরু হবে। শোভাযাত্রাটি চারুকলা অনুষদের ৩ নম্বর (উত্তর) গেট থেকে বের হয়ে বিভিন্ন স্থানে গিয়ে শেষ হবে।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন শোভাযাত্রায় অংশগ্রহণকারীদের জন্য কিছু নির্দেশনা দিয়েছে। নববর্ষের দিন শুধু নীলক্ষেত ও পলাশী মোড় দিয়ে ক্যাম্পাসে প্রবেশ করা যাবে, এবং অন্য প্রবেশপথ বন্ধ থাকবে। নিরাপত্তার জন্য অংশগ্রহণকারীদের পরিচয়পত্র সঙ্গে রাখার অনুরোধ করা হয়েছে।
এছাড়া ক্যাম্পাসে কোনো মুখোশ পরে প্রবেশ ও ব্যাগ বহন নিষিদ্ধ। তবে চারুকলা অনুষদে তৈরি মুখোশ প্রদর্শনের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। ইংরেজি প্ল্যাকার্ড, বেলুন, ফেস্টুন ও আতশবাজি নিষিদ্ধ করা হয়েছে। শোভাযাত্রার সময় সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে কিছু গেট বন্ধ থাকবে।
নববর্ষের দিন ক্যাম্পাসে সব অনুষ্ঠান বিকেল ৫টার মধ্যে শেষ করতে হবে এবং ৫টার পর আর কেউ ক্যাম্পাসে প্রবেশ করতে পারবেন না। ১৩ এপ্রিল সন্ধ্যা ৭টার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের স্টিকারযুক্ত গাড়ি ছাড়া অন্য কোনো যানবাহন প্রবেশ করতে পারবে না। নববর্ষের দিন মোটরসাইকেলসহ সব ধরনের যান চলাচল নিষিদ্ধ থাকবে।
এবারের শোভাযাত্রায় থাকবে পাঁচটি মোটিফ—মোরগ, বেহালা, পায়রা, হাতি ও ঘোড়া, যা যথাক্রমে শক্তি, সৃজন, শান্তি, গৌরব ও গতিময়তার প্রতীক হিসেবে উপস্থাপিত হবে। ৩৫ জন বাদ্যযন্ত্র শিল্পীর পরিবেশনায় জাতীয় সংগীত ও ‘এসো হে বৈশাখ’ শোভাযাত্রাকে প্রাণবন্ত করবে। এছাড়া ২০০ শিক্ষার্থী বাংলাদেশের পতাকা বহন করবেন।
