জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) গত সোমবার একটি বিশেষ অনুষ্ঠান ‘ব্যাঙের পানচিনি’ উদযাপিত হয়েছে। এই অনুষ্ঠানের মাধ্যমে প্রাচীন লোকজ বিশ্বাসকে তুলে ধরা হয়েছে, যেখানে ব্যাঙের বিয়ে দিলে কাঙ্ক্ষিত বৃষ্টির আশা করা হয়।
সন্ধ্যায় পুরাতন কলা ভবনের সামনে উৎসবের আবহ তৈরি হয়। বরপক্ষের আগমনের সাথে সাথে ঢাক-ঢোলের শব্দ ভেসে আসে। বরপক্ষকে বরণ করে নেওয়া হয় হলুদ, ধান ও দূর্বা দিয়ে। শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের জ্যেষ্ঠ শিক্ষকরা এই উৎসবে অংশগ্রহণ করেন।
বরের বাবার ভূমিকায় ছিলেন কলা ও মানবিকী অনুষদের ডিন অধ্যাপক মোজাম্মেল হক, আর কনের পিতার ভূমিকা পালন করেন চারুকলা বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক শামীম রেজা। চৈত্র সংক্রান্তি ও পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানের মূল লক্ষ্য ছিল প্রকৃতির সাথে মানুষের হারানো সংযোগ পুনরুজ্জীবিত করা।
এই অনুষ্ঠানে ব্যাঙের বিয়ের মাধ্যমে প্রকৃতির প্রতি দায়বদ্ধতার স্মারক হিসেবে একটি প্রতীকী কৃত্য পালন করা হয়। নাটক ও নাট্যতত্ব বিভাগের শিক্ষার্থী প্রজয় বলেন, ‘প্রান্তিক মানুষের বিশ্বাস থেকে উঠে আসা এই কৃত্যটি কেবল বিনোদন নয়।’
বর-কনের মধ্যে লড়াই ও সমঝোতার মাধ্যমে আংটি বদলের পর সম্মত হন যে আসছে আষাঢ়ে এই পরিণয় সম্পন্ন হবে। কলা ও মানবিকী অনুষদের ডিন অধ্যাপক মোজাম্মেল হক বলেন, ‘ব্যাঙ প্রকৃতির একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতীক। প্রকৃতি ভালো থাকলে মানুষও ভালো থাকবে, এই বার্তাই আমরা দিতে চেয়েছি।’
