ছায়ানটের বর্ষবরণে সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের উদযাপন

ছায়ানটের বর্ষবরণে সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের উদযাপন

রমনা বটমূলের ঐতিহ্যবাহী প্রভাতী অনুষ্ঠানের মাধ্যমে বাংলা নববর্ষকে বরণ করে নিল ছায়ানট। এবারের অনুষ্ঠানের প্রতিপাদ্য ছিল রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের দর্শন—‘চিত্ত যেথা ভয়শূন্য, উচ্চ যেথা শির’।

আজ মঙ্গলবার সকাল ৬টা ১৫ মিনিটে সম্মেলক কণ্ঠে ‘জাগো আলোক-লগনে’ গানের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের শুরু হয়। গানটি পরিবেশন করেন মিরাজুল জান্নাত সোনিয়া, ঐশ্বর্য সমাদ্দার, প্রিয়ন্তু দেব ও সমুদ্র শুভম। অনুষ্ঠানটিতে মোট ২৪টি পরিবেশনা ছিল, যার মধ্যে আটটি সম্মেলক সংগীত এবং ১৪টি একক গান ও আবৃত্তি অন্তর্ভুক্ত ছিল।

মাকসুদা আক্তার অন্তরা গেয়েছেন ‘এ কি সুন্দর শোভায় ভরা’ এবং আজিজুর রহমান তুহিন পরিবেশন করেন ‘তোমার হলো শুরু, আমার হলো সারা’। সেমন্তী মঞ্জরী গেয়েছেন ‘বাদল দিনের প্রথম কদম ফুল’ এবং বিটু কুমার শীল গেয়েছেন ‘আমার প্রাণের পরে চলে গেল কে’। শ্রাবন্তী ধর গেয়েছেন ‘আজি ঝড়ের রাতে তোমার অভিসার’ এবং বিজন চন্দ্র মিস্ত্রীর কণ্ঠে ছিল ‘মম চিত্তে নিতি নৃত্যে কে যে নাচে’।

নাসিমা শাহীন ফ্যান্সি গেয়েছেন ‘জাগো আনন্দ যোগে’ এবং খায়রুল আনাম শাকিল পরিবেশন করেছেন ‘শিকল ভাঙার গান’। শারমিন সাথী ইসলাম ময়নার কণ্ঠে ‘তোমার কাছে এ বর মাগি’ এবং তানিয়া মান্নানের ‘আমি চিনি গো চিনি তোমারে’ গানগুলো শ্রোতাদের মুগ্ধ করেছে। লাইসা আহমদ লিসা গেয়েছেন ‘আমি তোমার প্রেমে হবো সবার’ এবং বিমান চন্দ্র বিশ্বাস গেয়েছেন ‘বিপুল তরঙ্গ রে’।

অনুষ্ঠানে একটি বিশেষ পর্বে সলিল চৌধুরীর জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে তাকে শ্রদ্ধা জানানো হয়, যেখানে ‘ও আলোর পথযাত্রী, এই যে রাত্রি এখানে থেমো না’ গানটি পরিবেশন করা হয়। এছাড়া বীর মুক্তিযোদ্ধা, গীতিকার ও সুরকার মতলুব আলীর নির্বাচিত কিছু গানও পরিবেশিত হয়।

প্রায় ২০০ জন শিল্পী এই দুই ঘণ্টার অনুষ্ঠানে অংশ নেন, যা গত কয়েক দশক ধরে এক ঐক্যবদ্ধ জাতীয় উৎসবে পরিণত হয়েছে। অনুষ্ঠানটি বাঙালি পরিচয় ও ঐতিহ্যের উদযাপনে সব স্তরের মানুষকে একত্রিত করে।

আরও পড়ুন