বাংলাদেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলো প্রশাসনিক প্রভাব ও একাডেমিক সংকটের মধ্যে চলছে। এই প্রেক্ষাপটে, সরকার উপাচার্য নিয়োগের জন্য ছয় সদস্যবিশিষ্ট একটি সার্চ কমিটি পুনর্গঠন করেছে। যদিও এটি ইতিবাচক উদ্যোগ মনে হতে পারে, গভীরভাবে বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, এটি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে আমলাতান্ত্রিক নিয়ন্ত্রণের আওতায় নিয়ে আসার একটি প্রবণতার অংশ।
সরকার কর্তৃক নিয়োগপ্রাপ্ত ইউজিসি সদস্য, রাষ্ট্রপতি কর্তৃক নিয়োগপ্রাপ্ত উপাচার্য এবং বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক নিয়োগপ্রাপ্ত অধ্যাপকদের নিয়ে গঠিত এই কমিটিতে প্রশাসনিক প্রতিনিধিত্ব প্রধান হয়ে উঠেছে। এর ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বায়ত্তশাসনের ওপর হস্তক্ষেপের আশঙ্কা রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়কে একটি স্বায়ত্তশাসিত বুদ্ধিবৃত্তিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে উন্নত করা উচিত, যেখানে নেতৃত্ব নির্বাচনের ক্ষেত্রে একাডেমিক যোগ্যতা ও বুদ্ধিবৃত্তিক নেতৃত্বের বিষয়গুলো প্রাধান্য পাবে।
বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকরা দীর্ঘদিন ধরে আলাদা পে-স্কেলের দাবি জানিয়ে আসছেন, যা তাদের গবেষণা ও মেধা ধরে রাখার জন্য অপরিহার্য। কিন্তু প্রশাসনিক জটিলতার কারণে এই দাবি বাস্তবায়নে অগ্রগতি হয়নি। এছাড়া, উপাচার্য নিয়োগে সার্চ কমিটি গঠনের প্রক্রিয়ায় বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ মতামত অনুপস্থিত, যা একটি টপ-ডাউন মডেলে রূপ নিচ্ছে।
সরকারের পক্ষ থেকে যুক্তি দেওয়া হতে পারে যে প্রাতিষ্ঠানিক সার্চ কমিটি রাজনৈতিক প্রভাব কমাতে সাহায্য করবে, কিন্তু যদি কমিটির গঠন প্রশ্নবিদ্ধ হয়, তাহলে এটি নতুন নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থায় পরিণত হতে পারে। স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও অংশগ্রহণ ছাড়া সার্চ কমিটি গ্রহণযোগ্যতা অর্জন করতে পারে না।
এদিকে, সার্চ কমিটি গঠনে একাডেমিক প্রতিনিধিত্বকে প্রাধান্য দেওয়া উচিত। একজন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদকে সভাপতি হিসেবে নিয়োগ দেওয়া এবং উপাচার্যদের পরিবর্তে সিনিয়র শিক্ষাবিদদের অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব করা হয়েছে। এছাড়া, উপাচার্য নির্বাচন প্রক্রিয়ায় জনসম্মুখে মানদণ্ড প্রকাশ করে অভ্যন্তরীণ অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা উচিত।
সর্বশেষে, উপাচার্য নিয়োগে সার্চ কমিটি গঠন একটি বৃহত্তর কাঠামোর অংশ। যদি এটি আমলাতান্ত্রিক নিয়ন্ত্রণকে শক্তিশালী করে, তাহলে এর ফলাফল বিশ্ববিদ্যালয় ব্যবস্থার জন্য ক্ষতিকর হবে। বিশ্ববিদ্যালয়কে তার মর্যাদা ও স্বাধীনতা ফিরিয়ে দেওয়ার সময় এসেছে।
