কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে দরবারে হামলা চালিয়ে পীর আব্দুর রহমান শামীম হত্যার ১০০ ঘণ্টা পার হলেও পুলিশ কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি। পুলিশ জানিয়েছে, গত শনিবারের ওই ঘটনায় অভিযুক্তরা সবাই পলাতক।
গত শনিবার দুপুরে দৌলতপুর উপজেলার ফিলিপনগরে দরবার শরিফে পীর আবদুর রহমান শামীমকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে হত্যা করা হয়। এ সময় দরবার শরিফে ব্যাপক ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়। নিহতের ভাই ফজলুর রহমান সোমবার রাতে দৌলতপুর থানায় হত্যা মামলা করেন।
মামলায় আসামিদের মধ্যে রয়েছেন কুষ্টিয়া জেলা ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি খাজা আহম্মেদ, স্থানীয় জামায়াত কর্মী রাজিব মিস্ত্রি, খেলাফত মজলিসের দৌলতপুর উপজেলা সভাপতি আসাদুজ্জামান আসাদ এবং আবেদের ঘাট এলাকার একটি মাদ্রাসার শিক্ষক সাফি। এছাড়া মামলায় আরও ১৮০ থেকে ২০০ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে।
দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফুর রহমান বুধবার সন্ধ্যায় জানিয়েছেন, ‘এখন পর্যন্ত কোনো আসামিকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। ঘটনার ভিডিও ছড়িয়ে পড়ায় সংশ্লিষ্ট সবাই পলাতক। পুলিশ জোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।’
এদিকে শামীম হত্যার বিচার দাবিতে এলাকাবাসী ও তার ভক্ত-অনুসারীরা বিক্ষোভ মিছিল করেছেন। গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে ফিলিপনগর ইউনিয়নের দারোগার মোড় এলাকায় বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। মানববন্ধনে শামীম হত্যার সুষ্ঠু বিচার দাবি করা হয়।
বুধবার বিকেলে এক সংবাদ সম্মেলনে হামলা ও হত্যার ঘটনার সঙ্গে জামায়াত নেতার সংশ্লিষ্টতার অভিযোগকে মিথ্যা ও ভিত্তিহীন বলে দাবি করেন দৌলতপুর উপজেলা জামায়াতের আমির বেলাল উদ্দিন। তিনি জানান, ‘ফিলিপনগরের ওই ঘটনার সঙ্গে জামায়াতে ইসলামী বা এর কোনো নেতাকর্মীর বিন্দুমাত্র সম্পৃক্ততা নেই।’
পুলিশের প্রাথমিক তদন্ত অনুযায়ী, প্রথম হামলায় প্রায় ৭০-৮০ জন অংশ নেয় এবং ভাঙচুরে সরাসরি অংশ নেন ৭-৮ জন। পরে দ্বিতীয় দফায় স্থানীয় একটি মাদ্রাসার কয়েকশ শিক্ষার্থী হামলায় যোগ দেয়। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, হামলার সময়ের ভিডিও ছড়ানো আইডি ও পেজগুলোর কয়েকটির অ্যাডমিনের পরিচয় শনাক্ত করা হয়েছে।
