কলম্বিয়া: বিশ্বকাপকে ‘না’ বলা একমাত্র আয়োজক

কলম্বিয়া: বিশ্বকাপকে ‘না’ বলা একমাত্র আয়োজক

কলম্বিয়া 1986 সালের ফুটবল বিশ্বকাপ আয়োজন থেকে সরে দাঁড়ানো একমাত্র দেশ। ফিফার নথিপত্রে ‘কলম্বিয়া 86’ নামে কোনো টুর্নামেন্টের অস্তিত্ব নেই, যা ফুটবলের ইতিহাসে একটি ‘ভুতুড়ে’ বিশ্বকাপ হিসেবে পরিচিত। কলম্বিয়া শেষ মুহূর্তে ফিফাকে ‘না’ বলে দেয়, যখন তারা বিশ্বকাপ আয়োজনের জন্য প্রয়োজনীয় শর্ত পূরণ করতে অক্ষম হয়।

কলম্বিয়াকে বিশ্বকাপের স্বাগতিক করার পেছনে মূল ভূমিকা পালন করেন আলফোনসো সিনিয়র কেভেদো, যিনি কলম্বিয়ার কিংবদন্তি ফুটবল সংগঠক এবং মিলিওনারিওস ক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা। 1974 সালে জার্মানির মিউনিখে অনুষ্ঠিত ফিফা কংগ্রেসে কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী ছাড়াই কলম্বিয়াকে 1986 সালের আসরের স্বাগতিক ঘোষণা করা হয়।

তৎকালীন প্রেসিডেন্ট মিসায়েল পাস্ত্রানা গর্ব করে বলেছিলেন, ‘এটি প্রমাণ করে যে একটি দেশ লক্ষ্য স্থির করে এবং প্রতিশ্রুতিবদ্ধ থাকে, তখন তা অর্জন করতে পারে।’ কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ফিফার কঠোর শর্তগুলো দেশের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়।

ফিফা 1982 বিশ্বকাপ থেকে দলের সংখ্যা 16 থেকে 24-এ বাড়ানোর পর কলম্বিয়ার জন্য খরচের বোঝা বেড়ে যায়। বিশ্বকাপের সম্ভাব্য খরচ 5 বিলিয়ন কলম্বিয়ান পেসো থেকে বেড়ে 70 থেকে 100 বিলিয়ন পেসোর মধ্যে চলে যায়। ফিফা কলম্বিয়াকে 12টি কঠোর শর্ত দেয়, যার মধ্যে ছিল 40,000 ধারণক্ষমতার 12টি স্টেডিয়াম এবং 80,000 ধারণক্ষমতার 2টি স্টেডিয়াম নির্মাণ।

১৯৮২ সালে প্রেসিডেন্ট বেলিসারিও বেতানঙ্কুর টেলিভিশনে ঘোষণা দেন যে, ‘১৯৮৬ ফিফা বিশ্বকাপ কলম্বিয়ায় অনুষ্ঠিত হবে না।’ তিনি জনগণের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে বলেছিলেন যে, দেশে জরুরি কাজ রয়েছে।

কলম্বিয়ার সরে দাঁড়ানোর পর নতুন স্বাগতিক হিসেবে কানাডা, যুক্তরাষ্ট্র ও মেক্সিকো প্রতিযোগিতা করে। 1983 সালে মেক্সিকোকে বিশ্বকাপ আয়োজনের দায়িত্ব দেয়া হয়। কলম্বিয়া 1986 সালের বিশ্বকাপে কোয়ালিফাইও করতে পারেনি এবং প্যারাগুয়ের কাছে হেরে যায়।

আজ চার দশক পর বিশ্লেষকরা মনে করেন, বেতানঙ্কুরের সিদ্ধান্তটি ছিল বিচক্ষণতার উদাহরণ। ফিফার কর্পোরেট চাপের কাছে নতি স্বীকার না করে জনগণের ট্যাক্সের টাকা শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তায় ব্যয় করাই প্রকৃত দেশপ্রেম।

আরও পড়ুন