লোডশেডিংয়ে ভোগান্তি, বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর কথা ভাবছে সরকার

লোডশেডিংয়ে ভোগান্তি, বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর কথা ভাবছে সরকার

সরকার বিদ্যুতের পাইকারি ও খুচরা দাম বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে। ইরান যুদ্ধের কারণে উদ্ভূত জ্বালানি সংকটে ভর্তুকির বোঝা অনিয়ন্ত্রিত হয়ে পড়েছে। এপ্রিলের শুরুতে বিদ্যুৎ বিভাগের একটি প্রস্তাব মন্ত্রিসভার অনুমোদনের জন্য অপেক্ষা করছে, যেখানে পাইকারি বিদ্যুতের দাম প্রতি ইউনিট ৭ টাকা ০৪ পয়সা থেকে ১ টাকা ২০ পয়সা বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়েছে।

নতুন সিদ্ধান্তের প্রেক্ষাপটে গতকাল বিদ্যুৎ ঘাটতি বেড়ে এক হাজার ৯০০ মেগাওয়াটে পৌঁছেছে। খুলনা, ময়মনসিংহ ও রাজশাহীসহ বিভিন্ন এলাকায় অঘোষিত লোডশেডিংয়ের কারণে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়েছে। নোয়াখালীর ৯টি উপজেলার প্রায় সাড়ে ৯ লাখ গ্রাহক বিদ্যুৎ সরবরাহের অভাবে দুর্ভোগে পড়েছেন।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানাচ্ছেন, ২৪ ঘণ্টায় তারা মাত্র ৫-৬ ঘণ্টা বিদ্যুৎ পাচ্ছেন। বিদ্যুৎ না থাকায় পরীক্ষার্থীদের পড়াশোনা ও হাসপাতালগুলোর কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। পিডিবির তথ্য অনুযায়ী, খুলনায় বিদ্যুৎ সরবরাহ ছিল ১ হাজার ৫০০ মেগাওয়াট, যেখানে চাহিদা ছিল ১ হাজার ৮০০ মেগাওয়াট।

বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, জ্বালানি সংকটের কারণে বিদ্যুৎ উৎপাদন কমে গেছে। গত ২৬ ফেব্রুয়ারি জ্বালানি মন্ত্রী বিদ্যুতের দাম না বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, কিন্তু যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে তা সম্ভব হচ্ছে না।

বর্তমানে বিদ্যুতের উৎপাদন খরচ ১২ টাকা ৩৬ পয়সা হলেও পাইকারি বিক্রয়মূল্য ৭ টাকা ০৪ পয়সা। ফলে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ৪৫ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি দিয়েও পিডিবি ১০ হাজার ৬০০ কোটি টাকা লোকসান গুনছে।

বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর প্রস্তাব মন্ত্রিসভায় অনুমোদিত হলে, গণশুনানি পরে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের কাছে পাঠানো হবে। এছাড়া প্রতিবেশী দেশগুলোর বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর উদাহরণও উল্লেখ করা হয়েছে।

গতকাল দিনের পিক আওয়ারে ১৪ হাজার ৩৮০ মেগাওয়াট বিদ্যুতের চাহিদার বিপরীতে উৎপাদন হয়েছে ১২ হাজার ৩২৪ মেগাওয়াট, ঘাটতি ছিল এক হাজার ৯০০ মেগাওয়াট। জ্বালানি সংকটের কারণে দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতার একটি বড় অংশ অব্যবহৃত রয়েছে।

পিডিবির গ্রীষ্মকালীন পরিকল্পনায় গ্যাস, কয়লা ও ফার্নেস অয়েল থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রত্যাশা বাড়ানো হয়েছে, কিন্তু কয়লা সরবরাহের অভাবে উৎপাদন সক্ষমতা হ্রাস পেয়েছে।

আরও পড়ুন