পড়ার জন্য অতিরিক্ত চাপ দিয়ে সন্তানের ক্ষতি করছেন না তো?

পড়ার জন্য অতিরিক্ত চাপ দিয়ে সন্তানের ক্ষতি করছেন না তো?

শিশুকে অতিরিক্ত পড়ার চাপে রাখার প্রবণতা আমাদের সমাজে ক্রমেই বাড়ছে। শিক্ষাগত প্রতিযোগিতা, সামাজিক প্রত্যাশা ও প্রযুক্তির প্রভাবে শিশুর শৈশব চাপপূর্ণ হয়ে উঠছে। সঠিক দিকনির্দেশনা ও উৎসাহের বদলে অতিরিক্ত চাপ শিশুর মানসিক, বুদ্ধিবৃত্তিক ও শারীরিক স্বাস্থ্যে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের সাবেক পরিচালক অধ্যাপক ডা. মোহিত কামাল বলেন, ‘পড়ালেখায় অতিরিক্ত চাপ দিয়ে কাউকে মেধাবী বানানো যায় না। মেধা একটি স্বতঃস্ফূর্ত ও বিকাশশীল বৈশিষ্ট্য।’ তিনি জানান, শিশুর ব্যক্তিত্বের ভিত্তি ২ থেকে ৫ বছর বয়সেই গড়ে ওঠে এবং কল্পনাশক্তি ও সৃজনশীলতার বিকাশে সুযোগ না দিলে তারা পড়াশোনাকে আনন্দের বিষয় হিসেবে নিতে পারে না।

অতিরিক্ত চাপের ফলে আবেগগত, বুদ্ধিবৃত্তিক ও শারীরিক সমস্যার সৃষ্টি হয়। আবেগগত সমস্যাগুলোর মধ্যে রাগ, উদ্বেগ ও হতাশা অন্তর্ভুক্ত। বুদ্ধিবৃত্তিক সমস্যায় মনোযোগ কমে যাওয়া এবং আত্মবিশ্বাস ভেঙে যাওয়া দেখা যায়। শারীরিক সমস্যায় ঘুমের ব্যাঘাত ও শারীরিক বিকাশে বাধা পড়তে পারে।

বর্তমান যুগে শিশুদের মনোযোগ হারানোর একটি বড় কারণ হলো মোবাইলের অতি ব্যবহার। অধ্যাপক কামাল বলেন, ‘শিশুকে প্রযুক্তি থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন না রেখে, নিয়ন্ত্রিত ও বয়স-উপযোগী ব্যবহারের দিকে নজর দিতে হবে।’

শিশুর মধ্যে পড়ার আগ্রহ তৈরি করার জন্য কিছু পরামর্শ দিয়েছেন অধ্যাপক কামাল। এর মধ্যে উৎসাহ, ব্যক্তিত্ব ও আগ্রহ অনুযায়ী পদ্ধতি নির্ধারণ এবং পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানো অন্তর্ভুক্ত। তিনি আরও বলেন, ‘চাপ দিয়ে নয়, উৎসাহ দিয়ে শিশুর মেধা বিকাশ করতে হবে।’

আরও পড়ুন