গত শনিবার কুষ্টিয়ায় ধর্ম অবমাননার অভিযোগ তুলে ‘শামীম বাবার দরবার শরিফে’ হামলা চালানো হয়। হামলার সময় দরগার প্রধান আব্দুর রহমান শামিম ভেতরে ছিলেন। খাদেম জামিরন নেসা জানান, পীরের বিরুদ্ধে ইসলামবিরোধী বক্তব্য ছড়ানো হচ্ছিল। তিনি বলেন, ‘বিভিন্নজন নানাকথা বলছিল।’ আব্দুর রহমান শামিম হামলার সময় আলোচনার চেষ্টা করেছিলেন, কিন্তু হামলাকারীরা তার কথা শোনেনি।
হামলার ফলে আব্দুর রহমান শামিম গুরুতর আহত হন এবং হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেন। এই ঘটনায় সারাদেশে আলোচনা শুরু হয়, যা গত সপ্তাহে ঢাকায় সমকামী সন্দেহে হামলার ঘটনায় বাড়তি উত্তেজনা সৃষ্টি করে। মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটির তথ্যমতে, চলতি বছরের প্রথম তিন মাসে ৮৮টি মব সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে।
কুষ্টিয়ার হামলার মামলায় চারজন আসামীর মধ্যে দুইজন ধর্মভিত্তিক দলের সদস্য, তবে তারা ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগ অস্বীকার করেছে। হামলার আগে ‘কোরআনের অপমান’ এবং ‘ধর্ম অবমাননার’ অভিযোগ তুলে পীরের পুরনো ভিডিও ব্যবহার করা হয়।
গত দেড় বছরে দেশে একাধিক মাজারে হামলার ঘটনা ঘটেছে, যেখানে হাজার হাজার মানুষ অংশগ্রহণ করেছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক জোবাইদা নাসরীন বলেন, ধর্মীয় বিষয় সামনে এনে মানুষকে উত্তেজিত করা হয়। তিনি বলেন, ‘এটি একটি নিয়ন্ত্রণবাদী আদর্শের চর্চা।’
কুষ্টিয়ার হামলায় লুটপাটের ঘটনাও ঘটে। বাদী মামলায় মাজারের সম্পদ ও স্বর্ণালঙ্কার লুটের অভিযোগ করেন। হামলাকারীরা মাজারে হামলার সময় ভাঙচুরের পাশাপাশি লুটপাটে অংশ নেয়।
ইসলামী গবেষক ড. ওয়ালীয়ুর রহমান উল্লেখ করেন, এসব সহিংসতার পেছনে ‘বড় আলেমের’ নির্দেশনা নেই। তিনি বলেন, ‘অশুভ শক্তির হাত’ এসব ঘটনার পেছনে থাকে।
প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান বলেন, সরকার এ ধরনের ঘটনার প্রতিরোধে ব্যর্থ হয়েছে এবং কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের চেষ্টা করছে। তিনি জানান, ‘মবের ঘটনা ঠেকাতে সরকার কঠোর হবে।’
