১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল মুজিবনগর সরকারের শপথ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়, যা ভারত ও বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা। এই অনুষ্ঠানে নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছিল অত্যন্ত কঠোর। যুদ্ধের পরিস্থিতিতে পাকিস্তানি বিমানবাহিনীর আক্রমণ ঠেকাতে অ্যান্টি-এয়ারক্রাফট গান স্থাপন করা হয়।
কোলকাতায় অবস্থান করা ২০০ বিদেশি সাংবাদিকের জন্য ৬০টি গাড়ি ভাড়া করা হয়। তাদের ভোর চারটায় কলকাতা প্রেসক্লাবে উপস্থিত হতে বলা হয়, কিন্তু গন্তব্য সম্পর্কে কাউকে কিছু জানানো হয়নি। সাংবাদিকদের গাড়িবহর কলকাতা থেকে মেহেরপুরের বৈদ্যনাথতলার উদ্দেশ্যে রওনা হয়।
মুজিবনগর সরকারের শপথ অনুষ্ঠানের আয়োজনের দায়িত্বে ছিলেন বিএসএফের সমীর বসু এবং ভারতীয় সেনাবাহিনীর কর্নেল আই। অনুষ্ঠানটি অনুষ্ঠিত হয় একটি গোপন স্থানে, যেখানে নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছিল অত্যন্ত কঠোর।
সাংবাদিক মানস ঘোষের মতে, ১৯৭১ সালের এপ্রিল মাসে ভারতের বিভিন্ন স্থানে বিদেশি সাংবাদিকদের সংখ্যা ছিল সর্বাধিক, যা পূর্ববর্তী যুদ্ধে দেখা যায়নি। শপথ অনুষ্ঠানের সময় সাংবাদিকদের মধ্যে উত্তেজনা ছিল, কারণ তারা জানতেন না তাদের গন্তব্য কোথায়।
বৈদ্যনাথতলায় পৌঁছানোর পর সাংবাদিকরা জানতে পারেন যে, এটি মুজিবনগর সরকারের আনুষ্ঠানিক শপথ অনুষ্ঠান। অধ্যাপক ইউসূফ আলী বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র পাঠ করেন এবং সৈয়দ নজরুল ইসলাম শপথ নেন।
এই শপথের মাধ্যমে বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম একটি বৈধ সরকারের অধীনে পরিচালিত হচ্ছে, যা আন্তর্জাতিক সমর্থন অর্জনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ছিল।
