যান্ত্রিক ব্যস্ততা ছেড়ে পাখির রাজ্যে চলে গেছেন অনেকেই। গাছপালা আর সবুজে ঘেরা গ্রাম যেন জীববৈচিত্র্যের গোপন ভান্ডার। ভোরের নরম আলোয় যখন পাখিদের কলকাকলিতে ঘুম ভাঙে, তখন মনে হয় প্রতিটি দিনই প্রকৃতির এক নতুন উপহার।
শহরের যান্ত্রিক জীবন ও নাগরিক কোলাহলে ক্লান্ত হয়ে বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার ছায়াময় লক্ষ্মীকোলা গ্রামে ফিরে আসেন পাখিপ্রেমী ও ফটোগ্রাফার সব্যসাচী দাস। এবারের ঈদে তিনি লক্ষ্য করেন, বাড়ির চারপাশের ৪০০ মিটার ব্যাসার্ধের মধ্যে ৬ দিনে অন্তত ৭৪ প্রজাতির পাখি পর্যবেক্ষণ করেছেন।
প্রকৃতির অবিশ্বাস্য বৈচিত্র্য এই ছোট পরিসরে এত বিপুল সংখ্যক পাখির উপস্থিতি প্রমাণ করে যে, আমাদের গ্রামীণ পরিবেশ এখনো কতটা সুস্থ ও জীববৈচিত্র্যে সমৃদ্ধ। দুপুরের নিস্তব্ধতায় পাখিদের ডানা ঝাপটানোর শব্দ এবং বিকেলে আলো-ছায়ার লুকোচুরিতে তাদের বিচরণ লেন্সবন্দি করেছেন তিনি।
বিভিন্ন প্রজাতির মধ্যে উল্লেখযোগ্য পাখি হলো: ভুতুম পেঁচা, পাকরা মাছরাঙা, লালমাথা টিয়া, মেটেমাথা টিটি, লাল ঘুঘু, ধূসর চিল, জলপাইপিঠ তুলিকা, ধূসর খঞ্জনা, হলদে পা হরিয়াল, লাল বক, লালঘাড় রাজন, চোখাচখি, রঙ্গিলা চ্যাগা, কালোমাথা কাবাসী।
সব্যসাচী দাস জানান, আমাদের ব্যস্ত জীবন হয়তো আমাদের দৃষ্টিকে সীমিত করেছে। কিন্তু প্রকৃতির এই ছোট ছোট বিস্ময়গুলোই আমাদের শেখায় জীবন কতটা সুন্দর। নগরায়ন ও দূষণের কবলে পাখিদের আবাসস্থল সংকুচিত হচ্ছে, তাই এই প্রাকৃতিক পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষা করা আমাদের প্রত্যেকের নৈতিক দায়িত্ব।
তিনি উল্লেখ করেন, সচেতন না হলে আমাদের পরবর্তী প্রজন্ম কেবল বইয়ের পাতায় এই পাখিদের ছবি দেখবে, বাস্তবে তাদের ডাক আর শুনতে পারবে না।
