কক্সবাজারে বৃত্তি পরীক্ষার ওএমআর শিট হারিয়ে ৩৬৩ শিক্ষার্থীর ফলাফল ঝুঁকিতে

কক্সবাজারে বৃত্তি পরীক্ষার ওএমআর শিট হারিয়ে ৩৬৩ শিক্ষার্থীর ফলাফল ঝুঁকিতে

কক্সবাজারের রামুতে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির সরকারি বৃত্তি পরীক্ষার ওএমআর শিট হারিয়ে যাওয়ার ঘটনায় উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ৩৬৩ জন শিক্ষার্থীর পরীক্ষার তথ্যসংবলিত এই শিটগুলো না পাওয়ায় ফলাফল মূল্যায়ন নিয়ে শঙ্কা দেখা দিয়েছে অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা যায়, গত ১৫ এপ্রিল শুরু হওয়া বৃত্তি পরীক্ষার প্রথম দিন বাংলা পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। রামুর খিজারী আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে মোট ৩৬৩ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেয়। পরীক্ষা শেষে নিয়ম অনুযায়ী উত্তরপত্রের সঙ্গে সংযুক্ত ওএমআর শিট উপজেলা পর্যায়ের নিয়ন্ত্রণ কক্ষে জমা দেওয়ার কথা ছিল।

কিন্তু অভিযোগ উঠেছে, পরীক্ষা শেষে এসব গুরুত্বপূর্ণ ওএমআর শিট উপজেলা পরিষদে নেওয়ার পথে গায়েব হয়ে যায়। দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষকরা সেগুলো বহন করছিলেন বলে জানা গেছে। এ ঘটনায় কেন্দ্র সচিব, হল সুপার ও সহকারী হল সুপারকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা হলেন- কেন্দ্র সচিব ও খিজারী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নুর আহামদ, হল সুপার ও খুনিয়া পালং সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. জাকের হোছাইন এবং সহকারী হল সুপার ও হাসনাকাটা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মুহাম্মদ সরওয়ার আলম।

ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দেয়। অভিভাবক মোহাম্মদ আলী জানান, তার ছেলে পরীক্ষা শেষে খুশি হয়ে বাড়ি ফিরেছিল, কিন্তু পরে জানতে পারেন যে ওএমআর শিট হারিয়ে গেছে।

অন্য এক অভিভাবক জানে আলম বলেন, এটি একটি দায়িত্বহীনতার পরিচয়। এ ধরনের গুরুত্বপূর্ণ কাগজ কীভাবে হারিয়ে যায়? সুষ্ঠু তদন্ত হওয়া উচিত।

স্থানীয়রা অভিযোগ করছেন যে দায়িত্বপ্রাপ্ত কিছু শিক্ষকের বিরুদ্ধে আগেও অবহেলার অভিযোগ ছিল। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখা হচ্ছে। রামু উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. হানিফ মিয়া বলেন, ওএমআর শিট হারানোর ঘটনা সত্য এবং এটি অত্যন্ত দুঃখজনক।

তিনি জানান, ইতিমধ্যে তিন শিক্ষককে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে এবং পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. শাহীন মিয়া বলেন, এ ধরনের গাফিলতি কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।

শিক্ষা সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বৃত্তি পরীক্ষার মতো গুরুত্বপূর্ণ একটি মূল্যায়ন প্রক্রিয়ায় এমন ঘটনা প্রশাসনিক ত্রুটির বড় উদাহরণ। দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে দায়ীদের চিহ্নিত করা এবং শিক্ষার্থীদের ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়ার ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।

এদিকে, ওএমআর শিট ছাড়া কীভাবে হবে খাতা মূল্যায়ন এটি নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত সমাধান না দিলে অনিশ্চয়তা বাড়বে বলে আশঙ্কা করছেন অভিভাবক ও শিক্ষার্থীরা। ঘটনাস্থল থেকে ওএমআর শিট উদ্ধারে বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজির পরেও এখনো কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। ফলে ৩৬৩ জন পরীক্ষার্থীর ফলাফল নিয়ে অনিশ্চয়তা কাটছে না।

আরও পড়ুন