প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, উপজেলা স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়ন ও বিকেন্দ্রীকরণে সরকার বদ্ধপরিকর। তিনি বলেন, ‘বর্তমানে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক এবং উন্নত ল্যাব প্রায় সবকিছুই ঢাকা কেন্দ্রিক। জেলা ও উপজেলা ভিত্তিক হাসপাতালগুলোর মাধ্যমে উন্নত চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করছে।’
আজ শনিবার ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় আয়োজিত ‘উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা সম্মেলন-২০২৬’-এ প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন, শহর ও গ্রামাঞ্চলের স্বাস্থ্যসেবার বৈষম্য দূর করে সেবার বিকেন্দ্রীকরণ বর্তমান সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার।
তিনি বলেন, ‘চিকিৎসা পেশার গুরুত্ব যেকোনো পেশার চেয়ে বেশি এবং বর্তমান সরকার সুস্বাস্থ্যের বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ।’ প্রধানমন্ত্রী চিকিৎসকদের মানবিক গুণাবলীর গুরুত্বের ওপরও জোর দেন।
বিভিন্ন পরিসংখ্যান উল্লেখ করে তিনি বলেন, দেশের মোট মৃত্যুর ৭১ শতাংশ অসংক্রামক রোগের কারণে হয়ে থাকে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সাম্প্রতিক বছরগুলোতে পরিবেশগত বিপর্যয় ও জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাতের কারণে নতুন নতুন স্বাস্থ্য চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি হয়েছে।’
তিনি জানান, ‘বর্তমান সরকার ক্রমান্বয়ে স্বাস্থ্যখাতে জিডিপির পাঁচ শতাংশ বরাদ্দ দেওয়ার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে।’ প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রতিটি উপজেলা এবং পর্যায়ক্রমে প্রতিটি ইউনিয়নে একটি করে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা ইউনিট স্থাপন করার চিন্তা রয়েছে।
তিনি জানান, এই স্বাস্থ্যসেবা ইউনিটের জন্য সারাদেশে ১ লাখ হেলথ কেয়ারার নিয়োগ দেওয়া হবে, যাদের ৮০ শতাংশ নারী হবে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ভবিষ্যতের স্বার্থে মা ও শিশুর পূর্ণাঙ্গ স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে হবে।’
তিনি স্বাস্থ্যখাতে জরুরি-ভিত্তিতে হামের টিকা দেওয়ার ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের ধন্যবাদ জানান। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বর্তমানে সরকার একটি সমন্বিত ই-হেলথ কার্ড চালু করতে যাচ্ছে, যাতে প্রতিটি নাগরিকের স্বাস্থ্য-তথ্য ডিজিটালি সংরক্ষিত থাকবে।’
অবশেষে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ‘একটি জবাবদিহিমূলক, টেকসই এবং জনগণকেন্দ্রিক স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তুলতে নেতৃত্ব দিতে হবে।’
