সিআরবিতে হাসপাতাল নির্মাণ উদ্যোগের প্রতিবাদ, স্থাপনা না করার

সিআরবিতে হাসপাতাল নির্মাণ উদ্যোগের প্রতিবাদ, স্থাপনা না করার

চট্টগ্রামের সিআরবিতে হাসপাতাল নির্মাণের উদ্যোগের বিরুদ্ধে আবারও আন্দোলনে নেমেছেন অধিকারকর্মী ও পরিবেশবাদীরা। চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র শাহাদাত হোসেন জানিয়েছেন, সিআরবিতে নতুন কোনো স্থাপনা তৈরি হবে না, গাছ কেটে বা প্রাকৃতিক ঐতিহ্য ধ্বংস করে।

রেলপথ মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম আজ রোববার বিকেলে প্রস্তাবিত প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন করতে আসলে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। প্রতিবাদ জানাতে সিআরবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করেছে বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন।

মানববন্ধনে বক্তারা সিআরবিকে প্রাণবৈচিত্র্যপূর্ণ ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যবাহী এলাকা হিসেবে উল্লেখ করে বাণিজ্যিক নির্মাণের বিরুদ্ধে বলেন, এটি পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট করবে।

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ ডা. ইমরান বিন ইউনুস বলেন, সিআরবি চট্টগ্রামের মানুষের আবেগ ও ইতিহাসের অংশ। তিনি জানান, এখানে হাসপাতাল নির্মাণ হতে দেওয়া হবে না।

সাবেক কাউন্সিলর জান্নাতুল ফেরদৌস পপি ও জাতীয় নাগরিক পার্টির চট্টগ্রাম মহানগরের যুগ্ম সমন্বয়কারী আরিফ মঈনুদ্দিন হুঁশিয়ারি দেন যে, পূর্বে ৪৮০ দিনের আন্দোলনের ফলে প্রকল্প স্থগিত হয়েছিল, আবারও যদি দখলের চেষ্টা হয় তবে প্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে।

এদিকে, মেয়র শাহাদাত হোসেন সাংবাদিকদের বলেছেন, তিনি রেলমন্ত্রীকে জানিয়েছেন যে, সিআরবিতে হাসপাতাল নির্মাণ করা হবে না এবং এটি চট্টগ্রামবাসী মেনে নেবে না।

মেয়র আরও বলেন, পুরোনো হাসপাতালের অবকাঠামো নিয়ে আলোচনা চলছে, বর্তমানে সেখানে রোগী আসছে না।

২০১৩ সালে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বের আওতায় হাসপাতাল প্রকল্পের নীতিগত অনুমোদন হয়। ২০২০ সালে রেলওয়ের সঙ্গে ইউনাইটেড এন্টারপ্রাইজ অ্যান্ড কোম্পানি লিমিটেডের চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। তবে ২০২২ সালে ৪৮০ দিনের আন্দোলনের পর সরকার ঘোষণা করে যে, সিআরবিতে প্রকল্পটি হচ্ছে না।

চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের পরিকল্পনা অনুযায়ী, সিআরবি একটি সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য এলাকা। এখানে বাণিজ্যিক নির্মাণ নিষিদ্ধ। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকদের তথ্যমতে, এখানে ২২৩ প্রজাতির উদ্ভিদ রয়েছে।

রেলওয়ের পূর্বাঞ্চলের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী মো. মনিরুজ্জামান মন্ত্রীর পরিদর্শন নিশ্চিত করেছেন, তবে প্রকল্পের বর্তমান অবস্থার বিষয়ে বিস্তারিত জানাতে পারেননি।

আরও পড়ুন