পেকুয়ায় স্লুইসগেট বিধ্বস্ত, তলিয়ে গেছে হাজার একর লবণের মাঠ

পেকুয়ায় স্লুইসগেট বিধ্বস্ত, তলিয়ে গেছে হাজার একর লবণের মাঠ

কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলায় পূর্ণিমার অস্বাভাবিক জোয়ারের পানির ধাক্কায় বিধ্বস্ত হয়েছে মগনামা ইউনিয়নের সোনালী বাজারের স্লুইসগেট। এর ফলে ভাঙা স্লুইসগেট দিয়ে জোয়ারের পানি লোকালয়ে ঢুকে অন্তত এক হাজার একর লবণের মাঠ তলিয়ে গেছে।

এতে কোটি টাকার ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন হাজারও লবণ চাষি। মৌসুমের শেষ সময়ে এসে এমন বিপর্যয়ে কয়েক হাজার লবণ চাষির সারা বছরের উপার্জনের স্বপ্ন এখন নোনা জলে বিলীন হয়েছে। স্থানীয়রা জানান, স্লুইসগেটটি দীর্ঘদিন ধরে ঝুঁকিপুর্ণ অবস্থায় ছিল এবং রোববার সকালে ও দিবাগত রাতে জোয়ারের তোড়ে এটি বিধ্বস্ত হয়েছে।

জোয়ারের পানি স্বাভাবিকের চেয়ে কয়েক ফুট বৃদ্ধি পাওয়ায় স্থানীয় লোকজন কৃত্রিমভাবে পানি আটকানোর চেষ্টা করেও সফল হয়নি। চাষিরা কিছু বুঝে ওঠার আগেই মাঠের স্তূপ করা লবণ এবং উৎপাদনের অপেক্ষায় থাকা ‘বেড’গুলো তলিয়ে যায়। এতে শতাধিক ছোট বড় বিনিয়োগকারীসহ কয়েক হাজার প্রান্তিক চাষি সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।

লবণ চাষি গিয়াস উদ্দিন বলেন, ‘ঋণ নিয়ে লবণ মাঠের চাষ করছি। এমনিতে লবণের দাম কম, তার উপর কয়েক দফা জোয়ারের পানিতে লবণ তলিয়ে গেছে। চারদিকে অন্ধকার দেখছি।’ অন্যদিকে, চাষি নন্না মিয়া জানান, ‘২ একর জমিতে লবণ উৎপাদন করছি। বিক্রির জন্য প্রস্তুত শত শত মণ লবণ ছিল। পানিতে মাঠ ডুবে যাওয়ায় সব লবণ নষ্ট হয়ে গেছে।’

লবণ ব্যবসায়ী এয়ার মুহাম্মদ বলেন, ‘চাষিরা শেষ হয়ে গেছে। ধার কর্জ নিয়ে তারা লবণ চাষ করছে। লবণের দামও কম।’ তিনি জানান, পানি উন্নয়ন বোর্ডের কার্যকর উদ্যোগের অভাবে সাধারণ চাষিরা ক্ষতির শিকার হচ্ছে।

স্থানীয় চাষিরা জরুরিভিত্তিতে সরকারি সহায়তা এবং স্লুইসগেটটির স্থায়ী সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন। মগনামা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. ইউনুস চৌধুরী জানান, ‘জোয়ারের তোড়ে স্লুইসগেটটি ভেঙে চাষিদের যে অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে, তা আমি নিজে সরেজমিন দেখে এসেছি।’ তিনি বলেন, ‘এটি এলাকার অর্থনীতির ওপর বড় আঘাত।’

বর্তমান পরিস্থিতি সামাল দিতে একটি জরুরি বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে এবং দ্রুত বাঁধ সংস্কারের চেষ্টা চলছে।

আরও পড়ুন