নির্বাচনী ইশতেহারে তামাক নিয়ন্ত্রণের বড় প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল বিএনপি, কিন্তু ক্ষমতায় আসার পর তামাকজাত পণ্যের উৎপাদন ও ব্যবহার বাড়াতে পারে—এমন দুটি আইন সম্প্রতি সংশোধন করেছে সরকার।
সরকারী নির্দেশনায় ই-সিগারেট উৎপাদন ও ব্যবহারের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হয়েছে। এর পাশাপাশি, তিন-ফসলি বা উচ্চ ফলনশীল কৃষিজমিতে তামাক চাষ নিষিদ্ধের বিধানও বাতিল করা হয়েছে।
তামাকবিরোধী কর্মীরা বলছেন, সরকারের এই পদক্ষেপ তামাকজাত পণ্যের উৎপাদন ও ব্যবহারকে উৎসাহিত করবে এবং জনস্বাস্থ্যের জন্য হুমকি বাড়াবে। সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা হোসেন জিল্লুর রহমান মন্তব্য করেছেন, এই আইনি পরিবর্তনগুলো বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারের সঙ্গে সম্পূর্ণ সাংঘর্ষিক।
তিনি বলেন, বিএনপি তরুণ প্রজন্মকে রক্ষা ও তামাক নিয়ন্ত্রণ জোরদার করার কথা বলেছিল, কিন্তু আইন দুর্বল হলে নতুন ধূমপায়ীদের সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হবে।
অন্যদিকে, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা জিয়াউদ্দিন হায়দার বলেছেন, এসব পদক্ষেপে অঙ্গীকার ভঙ্গ হয়নি এবং বিএনপি এখনও তামাকজাত পণ্যের অপব্যবহার রোধে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
গত বছর জানুয়ারিতে জনস্বাস্থ্য রক্ষায় সরকার ই-সিগারেটের আমদানি নিষিদ্ধ করেছিল এবং ২৩ ডিসেম্বর একটি অধ্যাদেশ অনুমোদন করা হয়। এই অধ্যাদেশের ৬ (গ) ধারায় ই-সিগারেটসহ বিভিন্ন পণ্যের উৎপাদন ও বিপণন নিষিদ্ধ করা হয়েছিল।
তবে, ১০ এপ্রিল এই নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে গেজেট প্রকাশ করা হয়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও ইউনিসেফ এই পদক্ষেপের বিরুদ্ধে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে, কারণ তারা মনে করেন, এ ধরনের পণ্য তরুণদের মধ্যে নিকোটিন আসক্তি বাড়াচ্ছে।
বাংলাদেশে প্রতি বছর তামাকজনিত রোগে ১ লক্ষ ৩০ হাজারেরও বেশি মানুষ মারা যায়। তামাকবিরোধী সংস্থাগুলো বলছে, আইনের শিথিলতা মৃত্যুর কারণ বাড়াবে।
এছাড়া, গত জানুয়ারিতে ‘ভূমি ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ ও কৃষিজমি সুরক্ষা অধ্যাদেশ’ জারি করা হয়েছিল, যেখানে তামাক চাষের ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়। কিন্তু চলতি মাসের শুরুতে সংশোধিত আইনের সময় এই ধারাটি বাদ দেওয়া হয়।
বিএনপি তাদের নির্বাচনী ইশতেহারে তামাকজনিত অসংক্রামক ব্যাধি নিয়ন্ত্রণের কথা বলেছিল, যেখানে বলা হয়েছিল, জনস্বাস্থ্য রক্ষায় তামাক ব্যবহারের কারণে সৃষ্ট অসংক্রামক ব্যাধি নিয়ন্ত্রণে জোর দেওয়া হবে।
হোসেন জিল্লুর রহমান বলেন, এটি পশ্চাৎমুখী পদক্ষেপ এবং এর মাধ্যমে নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে অনৈতিক প্রভাব ফুটে ওঠে।
জিয়াউদ্দিন হায়দার বলেন, গবেষণার স্বার্থেই ই-সিগারেটের ওপর থেকে বিধিনিষেধ সরানো হয়েছে এবং এটি গণহারে বিক্রির জন্য নয়। তিনি আরও বলেন, কৃষকদের ওপর ছেড়ে দিতে হবে এবং যদি জমির উর্বরতা কমে যায়, তবে কৃষকরা স্বাভাবিকভাবেই তা বন্ধ করে দেবে।
