বিদায়ী অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের প্রেস সচিব শফিকুল আলম বলেছেন, সরকারি চাকরিজীবীদের নতুন বেতন স্কেল চালু করতে না পারাটা তার জন্য বড় দুঃখের বিষয়। তিনি এই বিষয়টি নিজের ফেসবুক পেজে জানিয়েছেন।
শফিকুল আলম জানান, সাবেক অর্থসচিব জাকির আহমেদ খানের নেতৃত্বে পে-কমিশন রিপোর্ট জমা দিয়েছিল। কিন্তু সময় কম থাকায় সরকার তা বাস্তবায়ন করতে সক্ষম হয়নি। তিনি বলেন, পরিকল্পনার অভাব ছিল না এবং অর্থ মন্ত্রণালয় এই কাজের জন্য ৩০ হাজার কোটি টাকা আলাদা করে রেখেছিল।
কিছু মানুষ মনে করেন যে, সরকারি কর্মীরা দুর্নীতি করেন, তাই তাদের বেতন বাড়ানো উচিত নয়। শফিকুল আলম এই ধারণাকে নাকচ করে বলেন, ‘আমলাতন্ত্রে ১৮ মাস কাজ করে তিনি দেখেছেন বেশিরভাগ সরকারি কর্মী সৎ, আন্তরিক এবং পরিশ্রমী।’
তিনি একজন সিনিয়র সচিবের বেতনের হিসাব তুলে ধরেন। একজন সিনিয়র সচিব মোট বেতন পান প্রায় এক লাখ ৮০ হাজার টাকা। বাড়িভাড়া ও অন্যান্য কাটার পর হাতে থাকে প্রায় এক লাখ ২৬ হাজার টাকা, যা মার্কিন ডলারে মাত্র ১ হাজার ডলার। ভারতের একজন সচিবের বেতন ও সুবিধার সঙ্গে তুলনা করলে এটি খুবই কম।
শফিকুল আলম বলেন, ‘সিনিয়র সচিব হিসেবে আমাকে প্রতি মাসে নিজের সঞ্চয় থেকে টাকা খরচ করতে হয়েছে শুধু একটি সাধারণ জীবনযাপন করতে।’ সচিবরা গাড়ি ও চালক পান, কিন্তু এর আর্থিক মূল্য মাসে মাত্র ৫০ হাজার টাকার মতো।
বিদেশ সফরের বিষয়েও তিনি পরিষ্কার করেছেন, বিদেশ ভ্রমণে যে ভাতা দেওয়া হয় তা খুবই কম এবং মোট কর্মীদের একটি ছোট অংশই কখনো বিদেশ যাওয়ার সুযোগ পান।
জ্বালানি তেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় সরকারি কর্মীদের হাতে টাকা আরও কম থাকবে বলেও তিনি জানান। এই পরিস্থিতিতে নতুন সরকারের কাছে তার আবেদন, আগামী বাজেটে বেতন যথাযথভাবে বাড়ানো হোক।
শফিকুল আলমের ভাষায়, ‘দেশের সেবায় যারা কাজ করেন তাদের ভালো বেতন দেওয়া বিলাসিতা নয়, এটি এই মুহূর্তের একটি জরুরি দরকার।’
