যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনায় হরমুজ প্রণালির গুরুত্ব বৃদ্ধি

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনায় হরমুজ প্রণালির গুরুত্ব বৃদ্ধি

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান আলোচনায় হরমুজ প্রণালি একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে। যুদ্ধ চলাকালীন সময়ে ইরান এই প্রণালী বন্ধ করে দিয়ে বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সংকট সৃষ্টি করেছে, যা এখন দ্বিতীয় দফার আলোচনায় কার্যকর দরকষাকষির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।

আজ মঙ্গলবার রয়টার্সের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ইসলামাবাদে পরবর্তী দফার আলোচনায় ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি বা আঞ্চলিক প্রক্সিগুলোর পরিবর্তে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের সীমা এবং হরমুজ প্রণালির ওপর ইরানের প্রভাব নিয়ে আলোচনা হবে। সাবেক রুশ প্রেসিডেন্ট দিমিত্রি মেদভেদেভ জানান, আলোচনার ফলাফল হিসেবে হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে দেওয়া যেতে পারে, তবে এর ফলে অঞ্চলের উত্তেজনা কমবে কিনা তা অধরাই থেকে যেতে পারে।

উপসাগরীয় সূত্র অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান কূটনীতি এখন ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি কমানোর বদলে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের মাত্রা ও হরমুজ প্রণালির ওপর তেহরানের প্রভাবকে পরোক্ষভাবে মেনে নেওয়ার দিকে বেশি মনোযোগী হচ্ছে। ইরানি নিরাপত্তা কর্মকর্তারা হরমুজকে ‘গোল্ডেন অ্যাসেট’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন, যা দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পিত প্রতিরোধের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।

বিশ্লেষকরা জানান, হরমুজ প্রণালির ওপর নিয়ন্ত্রণ নিয়ে আলোচনা হলেও মূল সমস্যা হচ্ছে নৌ চলাচলের নিয়মাবলী নির্ধারণ। তারা যুক্তরাষ্ট্রের একতরফা সিদ্ধান্ত গ্রহণের ফলে উপসাগরীয় দেশের মধ্যে চাপা ক্ষোভ ও হতাশার সৃষ্টি হয়েছে বলে উল্লেখ করেন।

এদিকে, উপসাগরীয় কর্মকর্তারা যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা শিথিল না করার জন্য অনুরোধ জানিয়েছেন এবং ইরানের আচরণ পরীক্ষা করার জন্য পর্যায়ক্রমিক পদ্ধতির পরামর্শ দিয়েছেন।

বিশ্লেষকদের মতে, দ্বিতীয় দফার আলোচনায় উত্তেজনা পুরোপুরি নিরসন হবে না, তবে এটি সহনীয় পর্যায়ে পৌঁছতে পারে। তবে এই ফলাফল উপসাগরীয় দেশগুলোর জন্য দীর্ঘমেয়াদী অস্থিতিশীলতার ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

আরও পড়ুন