‘চামড়া শিল্পের বিপর্যয় আওয়ামী সরকারের তৈরি আর্থিক সন্ত্রাস

‘চামড়া শিল্পের বিপর্যয় আওয়ামী সরকারের তৈরি আর্থিক সন্ত্রাস

বাংলাদেশ গ্রীন পার্টি দাবি করেছে, চামড়া শিল্পের বর্তমান বিপর্যয় বিগত আওয়ামী সরকারের আমলে সুপরিকল্পিতভাবে তৈরি করা একটি আর্থিক সন্ত্রাস। রাজধানীর একটি মিলনায়তনে দলের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত এক জরুরি গোলটেবিল বৈঠকে এই দাবি করা হয়।

দলের আহ্বায়ক রিদওয়ান হাসানের লেখা ‘কোরবানির চামড়ার মূল্য : প্রেক্ষিত কওমি মাদরাসা’ শীর্ষক কীনোট বক্তব্য পাঠ করেন সিনিয়র যুগ্ম সদস্য সচিব ইউসুফ হাসান আম্মার। তিনি বলেন, গত বছর অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আমলে কোরবানির চামড়া সংরক্ষণের জন্য ৩০ হাজার টন লবণ ফ্রি দেওয়া হয়েছিল, যা প্রকৃতপক্ষে একটি আইওয়াশ ছিল।

কীনোট বক্তব্যে চামড়ার ন্যায্য মূল্য পাওয়ার জন্য রাষ্ট্র নিয়ন্ত্রিত মনোপলি মডেল প্রস্তাব করা হয়। এই মডেলে দেশের উপজেলা পর্যায়ে একটি করে অস্থায়ী সরকারি চামড়া সংগ্রহ কেন্দ্র স্থাপনের প্রস্তাবনা দেওয়া হয়েছে। বক্তারা জানান, চামড়া সংগ্রহকারী বা মাদরাসা কর্তৃপক্ষকে ‘ন্যূনতম সহায়তা মূল্য গ্যারান্টি স্কিম’ প্রদানের মাধ্যমে অর্থনীতি স্থিতিশীল রাখা সম্ভব হবে।

বাংলাদেশ গ্রীন পার্টির সদস্য সচিব সালাহউদ্দীন জাহাঙ্গীর বলেন, ২০১৩ সালের পর থেকে চামড়ার বাজারে যে ধস, তা সরাসরি কওমি মাদরাসাকে লক্ষ্য করে চালানো হয়েছে। ২০১৩ সালে প্রতি বর্গফুট গরুর চামড়ার দাম ছিল ৮০-৯০ টাকা, যা বর্তমানে ৫০-৬০ টাকায় নামিয়ে আনা হয়েছে।

দলের প্রশাসন ও সম্পদ ব্যবস্থাপনা সম্পাদক শারাফাত শরীফ বলেন, চামড়া শিল্প ট্যানারী সিন্ডিকেটের হাতে বন্দি। তাদের কারণে কওমি মাদরাসাগুলো প্রতি বছর ৩০০ থেকে ৩৫০ কোটি টাকা কম আয় করছে।

বৈঠকে আবুবকর সিদ্দিক বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে চামড়ার দাম স্থিতিশীল থাকলেও বাংলাদেশে গত ১০-১২ বছর ধরে নাটকীয় দরপতন ঘটছে। তিনি বর্তমান সরকারকে এই সিন্ডিকেট থেকে বেরিয়ে আসার আহ্বান জানান।

গোলটেবিল বৈঠক থেকে বাংলাদেশ গ্রীন পার্টি সরকারের কাছে দাবি জানায়, লবণ বিতরণের মতো লোক দেখানো কাজ বন্ধ করে চামড়া শিল্পকে রাষ্ট্রীয় সুরক্ষায় নিতে হবে। অন্যথায়, ধর্মীয় ও সামাজিক প্রতিষ্ঠানের অস্তিত্ব রক্ষায় কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।

গোলটেবিল বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ গ্রীন পার্টির অন্যান্য সদস্যরা এবং আমন্ত্রিত অতিথিরা। উল্লেখ্য, বাংলাদেশ গ্রিন পার্টি একটি নতুন রাজনৈতিক দল, যা ২ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর একটি রেস্টুরেন্টে আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়।

আরও পড়ুন