রূপপুরে দুর্ঘটনা ঠেকাতে ৫ স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা: এমডি

রূপপুরে দুর্ঘটনা ঠেকাতে ৫ স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা: এমডি

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে দুর্ঘটনা ঠেকাতে ৫ স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্ল্যান্ট কোম্পানি বাংলাদেশ লিমিটেডের (এনপিসিবিএল) ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. জাহেদুল হাসান। দ্য ডেইলি স্টারকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এই নিরাপত্তা ব্যবস্থার বিস্তারিত বর্ণনা দেন।

তিনি বলেন, রূপপুরে ব্যবহৃত ভিভিইআর-১২০০ রিয়্যাক্টর একটি অত্যাধুনিক ‘তৃতীয় প্রজন্মের (প্লাস)’ প্রযুক্তি, যা রাশিয়ার রোসাটমের নকশা করা। আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) সুপারিশ অনুযায়ী এখানে ‘বহুস্তরীয় সুরক্ষা’ (ডিফেন্স-ইন-ডেপথ) নীতির মাধ্যমে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে। এতে একাধিক স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা একসঙ্গে কাজ করে।

উন্নত ‘অ্যাকটিভ সেফটি সিস্টেম’র পাশাপাশি আছে ‘প্যাসিভ সেফটি সিস্টেম’, যা বিদ্যুৎ বা মানুষের হস্তক্ষেপ ছাড়াই চুল্লিকে নিরাপদ রাখতে পারে। এ ছাড়া ডাবল কনটেইনমেন্ট স্ট্রাকচার, কোর ক্যাচার, হাইড্রোজেন রিকম্বাইনার এবং একাধিক বিকল্প নিরাপত্তা ব্যবস্থা যুক্ত করা হয়েছে। ২০১১ সালের জাপানের ফুকুশিমা দুর্ঘটনা থেকে শিক্ষা নিয়ে এই নকশায় অতিরিক্ত সুরক্ষাব্যবস্থা যোগ করা হয়েছে।

জাহেদুল হাসান বলেন, নিরাপত্তার আন্তর্জাতিক মানদণ্ড পূরণের জন্য আইএইএ-এর ‘নিরাপত্তা মানদণ্ড’ অনুসরণ করা হয়েছে। এর মূল শর্ত ‘বহুস্তরীয় সুরক্ষা’ অর্থাৎ দুর্ঘটনা ঠেকাতে পর্যায়ক্রমে পাঁচটি স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকতে হবে। রূপপুর প্রকল্পে শুরু থেকেই এই মানগুলো কঠোরভাবে অনুসরণ করা হয়েছে। নকশা থেকে কমিশনিং পর্যন্ত প্রতিটি ধাপে নির্ধারিত শর্ত মানা হয়েছে এবং আইএইএ-এর একাধিক আন্তর্জাতিক মিশন পরিচালিত হয়েছে।

সার্বিক নিরাপত্তা মনিটরিংয়ের বিষয়ে তিনি জানান, প্ল্যান্টে সাত হাজারের বেশি ‘ইন্টারলক’ ও বিভিন্ন নিরাপত্তা ফাংশন যুক্ত রয়েছে। অস্বাভাবিক পরিস্থিতি তৈরি হওয়া মাত্র স্বয়ংক্রিয়ভাবে নিরাপত্তা ব্যবস্থা সক্রিয় হয়ে যায়। চরম পরিস্থিতিতে অপারেটর না থাকলেও সিস্টেম স্বয়ংক্রিয়ভাবে চুল্লি বন্ধ করে দিতে সক্ষম। সব গুরুত্বপূর্ণ প্যারামিটার প্রধান নিয়ন্ত্রণকক্ষ থেকে পর্যবেক্ষণ করা হয়, যেখানে অপারেটররা দিন-রাত অবস্থান করেন।

আরও পড়ুন