ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ গুপ্ত রাজনীতি করে না বলে মন্তব্য করেছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সিনিয়র নায়েবে আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ ফয়জুল করীম। তিনি বলেন, ‘ইসলামী আন্দোলন যা মুখে বলে, বাস্তবে তাই করে।’
আজ শুক্রবার দুপুরে জাতীয় মে দিবস উপলক্ষে আয়োজিত শ্রমিক সমাবেশে তিনি এ কথা বলেন। ফয়জুল করীম বলেন, ‘নির্বাচনের পরে অনেকের প্রশ্ন যে, ঐক্যের জন্য আহ্বান করেছেন আপনারা, প্লাটফর্ম গড়েছেন আপনারা, আবার শেষ পর্যন্ত নাইও আপনারা।’ তিনি যোগ করেন, ‘ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ জোটে ছিল ইসলামের জন্য, বের হয়েছে ইসলামের জন্য। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ জনগণের সাথে ধোঁকাবাজি করতে পারে না, প্রতারণা করতে পারে না।’
তিনি আরও বলেন, ‘ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ইসলামের জন্য ক্ষমতা ত্যাগ করতে পারে, কিন্তু ক্ষমতার জন্য ইসলাম ত্যাগ করতে পারে না।’ বর্তমান সংসদ নিয়ে করীম বলেন, ‘আজকে আমরা সংসদে কী দেখছি? আবারও কে রাজাকার কে রাজাকার না—এটা প্রমাণ করার জন্য সময় ব্যয় করা হচ্ছে। আবার কেউ শিশু মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে নিজেকে প্রমাণ করার চেষ্টা করছে। এগুলো হাস্যকর।’
জামায়াত আমিরকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, ‘সত্য বললেই হয়, আপনার পরিবারের মধ্যে কে কে মুক্তিযোদ্ধা ছিল? তাহলে জাতি স্পষ্ট বার্তা পাবে যে অমুক অমুক মুক্তিযোদ্ধা ছিল। আমার পরিবারের লোক মুক্তিযোদ্ধা—কে কে মুক্তিযোদ্ধা? কোথায় যুদ্ধ করেছেন? কোথায় শহীদ হয়েছেন? বলে দেন। তাহলে অস্পষ্ট থাকবে না।’
বিরোধীদলকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, ‘বিরোধীদল সংসদে শরিয়াহ আইনের পক্ষে বিল উত্থাপন করবে এবং পাস না হলে ওয়াক আউট করবে এটা আমরা দেখতে চাই—এই ফাঁকিবাজি আমরা দেখতে চাই না।’ তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রীর বক্তব্যের জের ধরে করীম বলেন, ‘জনসভা থেকে বিরোধীদলকে স্পষ্ট বক্তব্য দেওয়ার জন্য অনুরোধ করছি, আপনারা কী চান? আপনারা এখানেও লুকোচুরি করবেন, এটা হতে পারে না।’
ছাত্রলীগের হেলমেট বাহিনী প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘কেউ কেউ বলেছেন, ছাত্রলীগের মধ্যে যে হেলমেট বাহিনী ছিল, তারা কারা। এই প্রশ্ন আসছে। যদি কোনো একদিন কেউ বলে যে, হেলমেট পরতো লোকগুলো অমুক ছিল, আপনারা কী জবাব দেবেন?’ তিনি আরও বলেন, ‘সব ভালো ভালো না, বেশি রাজনীতি ভালো না। ইদানীং আমরা দেখেছি, আপনাদের অতি রাজনীতিতে বিভিন্ন চোরাবালিতে আটকে যাচ্ছেন। এর থেকে বের হতে পারবেন না। আগে বক্তব্য স্পষ্ট করুন।’
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ আজ বা কাল দেশে ইসলামের শাসন চায় জানিয়ে তিনি বলেন, ‘বিগত নির্বাচন জনগণের নির্বাচন হয় নাই, চুক্তিবদ্ধ নির্বাচন হয়েছে।’ তিনি দাবি করেন, ইসলামের পক্ষে থাকার কারণে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ইসলামী আন্দোলনকে ষড়যন্ত্র করে হারানো হয়েছে। জঙ্গি নাটক সাজিয়ে আবারও দেশকে ধ্বংস করার চক্রান্ত চলছে অভিযোগ করে তিনি প্রশ্ন রাখেন, ‘বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের সময় কোনো জঙ্গি ছিল না। হঠাৎ জঙ্গি কোথায় থেকে এসেছে?’
