কৌতূহলবশত দুর্ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখলেন ছেলের মরদেহ, জ্ঞান হারালেন মা

কৌতূহলবশত দুর্ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখলেন ছেলের মরদেহ, জ্ঞান হারালেন মা

নাটোরের লালপুরে সোমবার দুপুরে বালুবাহী ট্রাকের চাপায় আশরাফুল ইসলাম নিহন (২৪) নামে এক তরুণ নিহত হয়েছেন। কয়েক মিনিট আগেই যে ছেলের মোটরসাইকেলে করে এসেছিলেন, সড়কে দুর্ঘটনার খবরে কৌতূহলী হয়ে ভিড় ঠেলে সামনে গিয়ে দেখেন সেই ছেলের রক্তাক্ত মরদেহ। এ দৃশ্য দেখে ঘটনাস্থলেই জ্ঞান হারান মা রুনিফা বেগম।

ঈশ্বরদী-লালপুর আঞ্চলিক মহাসড়কে লালপুর ফিলিং স্টেশনের সামনে এ ঘটনা ঘটে। নিহত আশরাফুল লালপুর উপজেলার বিলমাড়িয়া ইউনিয়নের নাগশোষা গ্রামের রেজাউল করিম ও রুনিফা বেগম দম্পতির ছেলে।

পরিবার ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দুপুর ১২টার দিকে আশরাফুল তার মা রুনিফা বেগমকে মোটরসাইকেলে করে লালপুরের ত্রিমোহনীতে নামিয়ে দেন। এরপর নিজে পেট্রোল নেওয়ার জন্য প্রায় ১০০ মিটার দূরে লালপুর ফিলিং স্টেশনের দিকে রওনা হন। ফিলিং স্টেশনে ঢোকার ঠিক আগমুহূর্তে বিপরীত দিক থেকে দ্রুতগতিতে আসা একটি বালুবাহী ট্রাক তাকে চাপা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই আশরাফুলের মৃত্যু হয়।

দুর্ঘটনার পরপরই শত শত মানুষ সেখানে ভিড় করেন। ট্রাকচাপায় এক তরুণ মারা যাওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়ে চারপাশে। ছেলের জন্য অপেক্ষারত মা রুনিফা বেগমও দুর্ঘটনার খবর পান। তখনও তিনি জানতেন না, নিহত তরুণটি তারই সন্তান। কৌতূহলবশত তিনি ভিড় ঠেলে দুর্ঘটনাস্থলের দিকে এগিয়ে যান। সামনে যেতেই দেখতে পান, সড়কে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে আছে তার আদরের ছেলে আশরাফুলের মরদেহ। এ দৃশ্য দেখার সঙ্গে সঙ্গেই তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন ও জ্ঞান হারান। পরে উপস্থিত জনতা রুনিফা বেগমকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য স্থানীয় হাসপাতালে পাঠান।

খবর পেয়ে লালপুর থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে এবং ঘাতক ট্রাক ও আশরাফুলের মোটরসাইকেলটি জব্দ করে থানায় নিয়ে যায়। ট্রাকচালক কামরুল ইসলাম এবং চালকের সহকারী শাহাদত হোসেনকে আটক করেছে পুলিশ। আটক দুজনেই চাপাইনবাবগঞ্জ জেলার নাচোল উপজেলার বাসিন্দা।

লালপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলাম বলেন, মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য নাটোর সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ট্রাকের চালক ও সহকারীকে আটক করা হয়েছে। পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

আরও পড়ুন