পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির বিজয়ে উল্লাস প্রকাশ করেছেন সমর্থকরা। ২০২৬ সালের ৪ মে, বিজেপির ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ দিন হিসেবে চিহ্নিত হবে বলে মনে করছেন অনেকে। ২০১৪ সাল থেকে ভারত শাসনকারী বিজেপি এবার পশ্চিমবঙ্গে দীর্ঘ ১৫ বছর ক্ষমতায় থাকা তৃণমূলের ‘জোড়াফুল’কে পরাজিত করেছে।
বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য কলকাতার ভবানীপুরে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের স্মৃতিতে শ্রদ্ধা জানিয়েছেন। মুখোপাধ্যায় ১৯৪৭ সালে মুসলিমপ্রধান বঙ্গের ভাঙনে পৃথক পশ্চিমবঙ্গের প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বিজেপির কর্মী-সমর্থকদের ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, ‘পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির জয়ের পর শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের আত্মা শান্তি পেল।’ বিজেপি নেতৃত্ব রাজ্যের প্রায় ৭০ শতাংশ হিন্দু ভোটারদের একত্রিত করে তৃণমূলকে পরাজিত করার আহ্বান জানিয়েছিল।
নব নির্বাচিত বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারী দাবি করেন, ‘বাংলার সমস্ত হিন্দুরা আজ একজোট হয়েছেন।’ প্রধানমন্ত্রী মোদি ভোটের প্রচারণায় ‘সোনার বাংলা’ প্রতিষ্ঠার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, যা এখন বাস্তবায়নের দায়িত্ব বিজেপির ওপর পড়েছে।
বিজয়ী প্রার্থী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, ‘এই জয় হিন্দুত্বের।’ যদিও রাজ্যে প্রায় ৩০ শতাংশ মুসলিম জনগণ রয়েছে, বিজেপি নির্বাচনে কোনো মুসলিম প্রার্থী দেয়নি।
বিজেপির শীর্ষ নেতারা নির্বাচনের পর ‘অনুপ্রবেশকারী’ প্রসঙ্গটিও তুলে ধরেছেন। অমিত শাহ ভোটার তালিকা সংশোধনের সময় বাংলাদেশি ও রোহিঙ্গাদের নাম বাদ দেওয়ার দাবি করেন, যদিও নির্বাচনের সময় এ বিষয়ে কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
বিজেপির এই বিজয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের কাছে একটি ‘বড় পরিবর্তন’ হিসেবে দেখা হচ্ছে, তবে অতীতের সাম্প্রদায়িক রাজনীতির রেশ এখনও বিদ্যমান। পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে এই পরিবর্তন স্থানীয় জনগণের উপর কতটা প্রভাব ফেলবে, তা সময়ই বলবে।
