গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে থেমে থাকা সিমেন্টবোঝাই ট্রাকের পেছনে যাত্রীবাহী বাসের ধাক্কায় চালকের ডান পা বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। এ ঘটনায় বাসের আরও চার যাত্রী আহত হয়েছেন।
ডান পা বিচ্ছিন্ন হওয়া বাসচালকের নাম শান্ত মিয়া (২৬)। তিনি গাইবান্ধা সদর উপজেলার কুপতলা গ্রামের লুৎফর রহমানের ছেলে।
দুর্ঘটনায় অন্য আহতরা হলেন- সুন্দরঞ্জের ছাতাইনতলা এলাকার মজিবর রহমানের ছেলে সিজু (৩০), কুড়িগ্রামের চিলমারী উপজেলার মাঝিপাড়া এলাকার বিষ্ণ রায়ের স্ত্রী সাথী রায় (২১), শিবগঞ্জের গগণপাড়ার আজিজার রহমানের ছেলে মানিক মিয়া (৩১) ও রংপুরের আশরাফুল ইসলাম (৩২)।
গোবিন্দগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস, হাইওয়ে পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা গাইবান্ধাগামী সৈকত পরিবহনের একটি বাস সকাল সাড়ে ৭টার দিকে গোবিন্দগঞ্জের পৌর শহরের পান্তাপাড়া এলাকায় এসে সিমেন্টবোঝাই দাঁড়িয়ে থাকা একটি ট্রাককে পেছন থেকে ধাক্কা দেয়। এতে বাসটির সামনের অংশ দুমড়ে-মুচড়ে চালক চাপা পড়ে এবং তার ডান পা বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। একই সঙ্গে বাসে থাকা চার যাত্রী আহত হন।
পরে স্থানীয়রা চাপা পড়া চালককে টেনে বের করে চিকিৎসার জন্য গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। অবস্থা গুরুতর হওয়ায় কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করেন। দুর্ঘটনার পরপরই বিচ্ছিন্ন হওয়া পা ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা উদ্ধার করে।
গোবিন্দগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের স্টেশন অফিসার (এসও) মাসুদ রানা বলেন, সিমেন্টবোঝাই একটি দাঁড়িয়ে থাকা ট্রাকে ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা একটি যাত্রীবাহী বাস পেছন থেকে ধাক্কা দিলে বাসটির সামনের অংশ দুমড়ে-মুচড়ে যায়। এতে বাসচালকের ডান পা বিচ্ছিন্ন হয় এবং বাম পা ভেঙে গেছে, সেটিও প্রায় বিচ্ছিন্ন। অপর চারজন যাত্রী আহত হলেও তারা কেউই গুরুতর নয়। ধারণা করা হচ্ছে চালক দুর্ঘটনার সময় ঘুমিয়ে পড়ছিলেন।
গোবিন্দগঞ্জ হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাসির উদ্দিন বলেন, দুর্ঘটনার সময় চালক ঘুমিয়ে পড়ছিলেন, যা চালক নিজেই আমাদের কাছে স্বীকার করেছেন। চালকের শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাকে বগুড়া শজিমেকে পাঠিয়েছে চিকিৎসকরা। অন্য আহত যাত্রীরা সামান্য আহত হয়েছিলেন, তারা চিকিৎসা নিয়ে চলে গেছেন। বাসটি জব্দ করা হয়েছে।
